বিবিএ নিউজ.নেট
সোমবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ প্রিন্ট ৩৭৫ বার পঠিত
সুকুক বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে পাবলিক অফারে অর্থ উত্তোলনে ৫ কার্যদিবসের প্রথম দফায় ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) সাবস্ক্রিপশনের সময় ১০ কার্যদিবস বাঁড়ায়। কিন্তু তারপরেও বন্ডটিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরী হয়নি এবং আবেদন জমা পড়েনি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বেক্সিমকোর ৩ হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ডের মধ্যে পাবলিক অফারে ৭৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য গত ১৬ আগস্ট চাদাঁ সংগ্রহ শুরু করে। যার জন্য প্রথম দফায় নির্ধারিত সর্বশেষ সময় ছিল ২৩ আগস্টের বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। ওই সময়ে বন্ডটির চাহিদার ৭৫০ কোটি টাকার বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা মাত্র ৫৫ কোটি ৬১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বা ৭.৪১৫% আবেদন করেন। এতে ৭১ জন বিনিয়োগকারী আবেদন করেন।
এই ব্যর্থতার পরে বেক্সিমকো সাবস্ক্রিপশনের সময় ১০ কার্যদিবস বাড়ায়। যা আজ বিকাল (৬ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু ফলাফল প্রায় আগের মতোই রয়েছে। তবে বিদ্যমান আইনে আবেদনের সময় বাড়ানোর আর সুযোগ নেই।
সময় বাড়ানোর পরে বেক্সিমকোর বন্ডটিতে বর্ধিত সময়ে মাত্র ১ জন বিনিয়োগকারী আবেদন করেছেন। যাতে করে ৭৫০ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৫৫ কোটি ৭১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বা ৭.৪২৯% আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ বর্ধিত সময়ে ১ জন ১০ লাখ টাকার আবেদন করেছেন। কিন্তু চাহিদা পূরণে ঘাটতি ছিল ৬৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহি পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বন্ডটির ক্ষেত্রে কোন একটি অপশনে যদি কম আবেদন জমা পড়ে, তা অন্য দুই অপশনে বরাদ্দ রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। যেমন পাবলিক অফারে কম আবেদন জমা পড়লে, সেই অংশটুকু প্রাইভেট প্লেসমেন্টের বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার বা অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ইস্যু করা যাবে। আর প্লেসমেন্টে বন্ডটি ইস্যু করা যাবে কনসেন্ট পেপার পাওয়ার দিন থেকে সর্বনিম্ন ১ মাস এবং সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত। যে কনসেন্ট লেটার দেওয়া হয়েছে গত ৮ জুলাই।
তিনি বলেন, সুকুক বন্ডটির পাবলিক অফারে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবস চাদাঁ সংগ্রহের সুযোগ ছিল। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ প্রথম দফায় ৫ কার্যদিবস চাঁদা সংগ্রহের জন্য সময় নির্ধারন করেছিল। কিন্তু ওইসময়ে চাহিদার পুরো আবেদন জমা না পড়ায়, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সেই সময় বাঁড়ায়।
উল্লেখ্য বেক্সিমকোর প্রস্তাবিত গ্রিন সুকুকটির আকার ৩ হাজার কোটি টাকার। এরমধ্যে ৭৫০ কোটি টাকা আইপিওতে উত্তোলনের জন্য বরাদ্দ। বাকি ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকার প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। এরমধ্যে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের থেকে ৭৫০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের থেকে ১৫০০ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য বরাদ্দ।
গত ২৩ জুন কতিপয় শর্তসাপেক্ষে বিএসইসি বেক্সিমকো লিমিটেডের ৩ হাজার কোটি টাকার ৫ বছর মেয়াদী সিকিউরড কনভার্টেবল অথবা রিডেম্বল অ্যাসেট ব্যাকড গ্রিন সুকুক এর প্রস্তাব প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করে বেক্সিমকো লিমিটেডের টেক্সটাইল ইউনিটের কার্যক্রম বর্ধীতকরণ এবং বেক্সিমকো দুটি সরকার অনুমোদিত সাবসিডিয়ারি নবায়ন যোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের (তিস্তা সোলার লিমিটেড এবং করতোয়া সোলার লিমিটেড) বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবেশ উন্নয়ন এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে চায়।
এই সুকুকের প্রতি ইউনিটে অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা। সুকুকটির নূন্যতম সাবস্কিপশন ৫ হাজার টাকা ও নূন্যতম লট ৫০টি। সুকুকটির সর্বনিন্ম প্রিয়ডিক ডিস্ট্রিবিউশন রেট ৯ শতাংশ।
সুকুকটির ট্রাস্টি হিসেবে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এবং ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে যথাক্রমে সিটি ব্যংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস ও অগ্রণী ইক্যুইটি এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কাজ করছে।
Posted ০৬:১৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com