বিবিএনিউজ.নেট
বৃহস্পতিবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২১ প্রিন্ট ৬৩৩ বার পঠিত
কেবল আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু কৃত্রিম বুদবুদ তৈরি করে বাজারকে যখন ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে অনেক বড় করা হয়, তখন ধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে এ-রকম দুটি কলঙ্কজনক ঘটনার সাক্ষী দেশের পুঁজিবাজার। প্রথম দফায় কাগজের শেয়ার নিয়ে অনেক জাল-জালিয়াতি হলেও দ্বিতীয় দফা ধসের সময় বাজারের লেনদেন ব্যবস্থা ছিল ইলেকট্রনিক। তারপরও কারসাজি চক্র ঠিকই নানা গুজব ছড়িয়ে সর্বস্বান্ত করেছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের। ২০১০ সালের ধসের পর বাজার স্বাভাবিক করতে সুদ ও কর মওকুফ, প্রণোদনা তহবিল গঠনসহ অনেক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু বাজার আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এজন্য আইন প্রয়োগে খায়রুল কমিশনের গাফিলতি ও অসংখ্য দুর্বল কোম্পানির বাজারে আনাকেই দায়ী করা হয়।
এরপর অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে নতুন কমিশন গঠনের পরই ছন্দে ফিরতে শুরু করে পুঁজিবাজার। নতুন বছরের প্রথম লেনদেনের দিনেই বিরাট উত্থান হয়েছে সূচকের। তারপরের দুইদিন সূচক ওঠানামা করলেও লেনদেন ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু আগের তিক্ত অভিজ্ঞতায় পুঁজিবাজারের এই উত্থান নিয়ে শঙ্কিত অনেকেই। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ভাবছেন, বাজারে আবার কৃত্রিম বুদবুদ তৈরি হচ্ছে না তো? পুঁজি হারিয়ে আবার সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হবে কি? তবে আপাতত সে রকম কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন নিম্নমুখী ধারায় থাকা পুঁজিবাজারের গত কয়েক দিনের উত্থানকে স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। এছাড়া বাজারের বর্তমান গতিকে বিএসইসির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার আভাস হিসেবেই ধরা যেতে পারে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কিছু পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর বন্ধ থাকা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) খুলে দিয়েছে। পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা তৈরি করেছে। আর যেসব কোম্পানি অনিয়ম করেছে তাতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। অনিয়মের দায়ে অনেক কোম্পানিকে কোটি কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন কমিশনের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। তারপরও কোনো ধরনের উটকো ঝুঁকি যেন বাজারে সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
Posted ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২১
bankbimaarthonity.com | Sajeed
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com