মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে ভাতা বাড়াতে কমিটি

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৫   প্রিন্ট   ১৫৩ বার পঠিত

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে ভাতা বাড়াতে কমিটি

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বছরে অন্তত একবার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি শাখার অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি এ কমিটি গঠন একটি অফিস আদেশ জারি করে অর্থ বিভাগ।

৯ সদস্যের এ কমিটিতে আরও রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি।

কার্যপরিধি অনুযায়ী কমিটি ছয়টি কর্মসূচিকে এ পদ্ধতিতে পর্যালোচনা করবে। এর মধ্যে রয়েছে– সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বয়স্কভাতা কার্যক্রম, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীগুলোর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম। এ তালিকায় আরও রয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) কর্মসূচি।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বাজেটে বয়স্কভাতা কর্মসূচির আওতায় ৬১ লাখ উপকারীভোগী মাসিক ৬৫০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে চার হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত কার্যক্রমের আওতায় মাসিক ৬৫০ টাকা হারে ২৯ লাখ জন ভাতা পাচ্ছেন। প্রতি মাসে ৯০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন ৩২ লাখ ৩৪ হাজার প্রতিবন্ধী। এ ছাড়া অনগ্রসর ও বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বেশ কিছু সংখ্যক বিভিন্ন হারে ভাতা পেয়ে আসছেন।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ব্যবহার করে ভাতার হারকে এমনভাবে সমন্বয় করা হবে; যাতে মূল্যস্ফীতি ভাতার পরিমাণকে প্রভাবিত না করে। এ পদ্ধতিতে কমিটি বছরে ন্যূনতম একবার ভাতার হার পর্যালোচনা করবে। কমিটির সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন সামাজিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা বা উপদেষ্টা পরিষদ কমিটিতে বিবেচনার জন্য অর্থ সচিবের কাছে জমা দেবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারিকৃত এ আদেশ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউল আবেদীনের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। ক্যাশভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া সুবিধা পদ্ধতিগতভাবে সময়ে সময়ে পর্যালোচনাবিষয়ক এ সভায় তিনি বলেন, ক্যাশভিত্তিক বা নগদ টাকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে প্রদেয় সুবিধা অংশীজন নিয়ে সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করা গেলে এর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব।

অতিরিক্ত সচিব সভাকে অবহিত করেন, বিভিন্ন সময়ে মূল্যস্ফীতির ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো প্রদেয় ভাতার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তা পর্যালোচনা করার প্রস্তাব এসেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) একটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় ক্যাশভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পদ্ধতিগতভাবে সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করার একটি শর্ত রয়েছে।

সভায় অর্থ বিভাগের বাজেট শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতাভুক্ত কর্মসূচি ৯৫টি। এর মধ্যে ক্যাশভিত্তিক কর্মসূচি রয়েছে ২১টি। পর্যালোচনা করার ক্ষেত্রে সরকারের প্রধান প্রধান ক্যাশভিত্তিক কার্যক্রমকে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। বৈঠকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বছরে অন্তত একবার ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

Facebook Comments Box
×

Posted ০১:২৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্য

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০ 
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com