নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট ১১৯ বার পঠিত
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ অডিট প্রতিবেদনে ৩৭টি কোম্পানির ক্ষেত্রে ‘গোয়িং কনসার্ন’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, এই সংখ্যা মোট তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১০ শতাংশেরও বেশি। ফলে বিষয়টি বাজারে আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অডিটররা সাধারণত তখনই ‘গোয়িং কনসার্ন’ সতর্কতা দেন, যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় পরিস্থিতি, ঋণের চাপ বা তারল্য সংকট এতটাই প্রকট হয় যে ভবিষ্যতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এই তালিকায় বিদ্যুৎ, বস্ত্র, খাদ্য, ওষুধ এবং আর্থিক খাতের বেশ কিছু পরিচিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উল্লেখযোগ্যগুলোর মধ্যে আছে বারাকা পাওয়ার লিমিটেড, ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড এবং বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড। বিশেষ করে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতের সংকট বেশি গভীর। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, নগদ অর্থের ঘাটতি এবং ধারাবাহিক লোকসানের কারণে এই খাতের কয়েকটি কোম্পানি টিকে থাকার লড়াইয়ে রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, সতর্কতাপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯টি ইতোমধ্যে পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া আরও বহু প্রতিষ্ঠান নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। কিছু কোম্পানির আর্থিক দুরবস্থা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। যেমন ইন্ডো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ধারাবাহিক লোকসান ও তীব্র তারল্য সংকটে রয়েছে। অন্যদিকে সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড বিপুল ঋণের বোঝা ও উৎপাদন স্থবিরতার কারণে প্রায় অচল অবস্থায়। বিদ্যুৎ খাতেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বারাকা পাওয়ার লিমিটেড-এর একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বন্ধ রয়েছে। নতুন চুক্তি না হলে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থানে থাকলেও, তাদের কার্যক্রম সহায়ক প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আর্থিক খাতে সংকট আরও প্রকট। প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড তীব্র তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপে রয়েছে, যা তাদের দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড-এর ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের লোকসান, উচ্চ ঋণ এবং চলতি সম্পদের ঘাটতির কারণে অডিটররা গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দেশের পুঁজিবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। করপোরেট সুশাসনের অভাব, দুর্বল নজরদারি এবং তথ্য প্রকাশে অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা বাড়িয়ে তুলছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এর মধ্যে কঠোর তদারকি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘদিন অকার্যকর কোম্পানিগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ থাকতে পারে।
Posted ০৬:১৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Amiyou Rudra
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com