নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট
জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহিম জোয়ারদার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাসকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব নথি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাহিদুর রহিম জোয়ারদার দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত ‘এসআইএস’ সিস্টেমের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন কাজের আড়ালে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে (ওভার ইনভয়েসিং) বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। একই কৌশলে স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়েও শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্ল্যানারি হলের সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামতের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ সময় জাহিদুর রহিমের প্রতিষ্ঠান সিস্টেমটি পরীক্ষা করে মেরামতের সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করে এবং একটি প্রাক্কলন জমা দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু সিস্টেম পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রকৌশলীদের যাতায়াত, আবাসন ও সম্মানী বাবদ প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া পুরো সিস্টেমের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় চার কোটি টাকার উচ্চমূল্যের প্রাক্কলনও জমা দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমানে তদন্তের আওতায় রয়েছে।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করেছে। এর মধ্যে রয়েছে টেন্ডার ও ক্রয় সংক্রান্ত কাগজপত্র, কার্যাদেশ, প্রশাসনিক অনুমোদন, বাজার যাচাই প্রতিবেদন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির রেজুলেশন, মালামালের গুণগত মান যাচাইয়ের সনদ, বিল-ভাউচার, স্টক রেজিস্টার ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন।
এছাড়া ৫ আগস্টের ঘটনায় সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নাম-ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল কি নাÑএসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদক জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Posted` ৭:১৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com