নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০ প্রিন্ট ৬৬৫ বার পঠিত
ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শহিদুল্লাহ ২২ হাজার বিও অ্যাকাউন্টধারীর প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ও তার মধ্যে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় ডিবি। এ ঘটনায় পল্টন থানায় দুটি মামলা রুজু হয়েছে। শহিদুলাহ স্বীকার করেছেন যে, আত্মসাতের জন্যই টাকা তুলে পালিয়েছিলেন। এছাড়া আরেকটি অবৈধ কাজ করেছেন তারা। নিয়ম অনুযায়ী তারা শুধু এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট খুলে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন। তবে তারা প্রায় ৬০০ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর নিয়ে ডিডের মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা নিয়ে তাদের মাসে মাসে লভ্যাংশ দিচ্ছেন, যেটা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই টাকাটা মেরে দেয়ার জন্যই তিনি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে গেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আজ মঙ্গলবার ডিবি কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন এ তথ্য জানান।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে আনুমানিক ২২ হাজার বিও অ্যাকাউন্টধারীর শেয়ার কেনাবেচার ১০০ কোটি টাকা ছিল। শহিদুল্লাহ ২২ তারিখে তার প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ কোটি টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে শিফট করে প্রতারিত করার জন্য সরিয়ে নিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা যখন দেখলো যে অ্যাকাউন্টে টাকা নেই, তখন তারা অফিসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলো। তখন দেখে অফিস তালা ও শহিদুল্লাহ, তার স্ত্রী ও ভাই পালিয়ে গেছে।
শহিদুল্লাহকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শহিদুল্লাহ ও মালিকদের হাউজের ২২ হাজার বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টের শেয়ারসহ ১০০ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের টার্গেট নিয়েছিল।এর মধ্যে ১৮ কোটি টাকা তুলেও ফেলেছিল। তবে এর আগেই ডিবির অভিযানে ধরা পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার এএইচ এম আজিমুল হক, জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাদিয়া আফরোজসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। ওইদিন থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এবং সকল অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়।
এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তড়িৎ গতিতে পদক্ষেপ নেয়। তারা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ২ প্রতিনিধিসহ ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। যে কমিটি বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুপাটের পরিমাণসহ বিস্তারিত তুলে ধরবে। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করলেও তারা কেনো মুঠোফোনে ম্যাসেজ পায়নি, এজন্য সিডিবিএলের কোন ঘাটতি আছে কিনা, তা অনুসন্ধান করবে।
এছাড়া হাউজটির মালিকরা যেনো বিদেশে যেতে না পারে, সেলক্ষে ডিএসই থেকে পল্টন থানায় অভিযোগ করা হয়। একইসঙ্গে মালিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুরোধ করে। এখন তাদের ১০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।
ব্রোকারেজ হাউজটিতে ২১ হাজার বিনিয়োগকারীর ৮২ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট ফ্রিজ করা হলেও তাদের দেনা-পাওনার বিষয়টি এখনো পরিস্কার না। ৮২ কোটি টাকার বাহিরে ওই হাউজে বিনিয়োগকারীদের অজান্তে কত টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে বা নগদ কতটাকা পাওনা রয়েছে, তা পরিস্কার না।
বন্ধ করার আগে ওই হাউজটি থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকার শেয়ার কেনা হয়। তবে এর বিনিময়ে ডিএসইকে দেওয়া চেক বাউন্স করে। ফলে হাউজটির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ডিএসই। তাদের কাউকে না পেয়ে কেনা শেয়ারগুলো সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে রাখে। পরবর্তীতে ওই শেয়ারগুলো বিক্রি করে পাওনা পরিশোধ করে ডিএসই।
কিছু কিছু বিনিয়োগকারীকে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ থেকে দেওয়া চেকও বাউন্স করেছে। হাউজ থেকে তাদেরকে চেক দেওয়া হয়েছে টাকা তোলার জন্য। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে তারা দেখে একাউন্টে কোন টাকা নেই। এ হাউজটির ৩টি শাখা রয়েছে- নারায়ণগঞ্জ, ঢাকার বারিধারা ও কুমিল্লায়। সবগুলো শাখাই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
Posted ০৬:৪২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০
bankbimaarthonity.com | saed khan
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com