বিবিএনিউজ.নেট
বুধবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২১ প্রিন্ট ৫৫২ বার পঠিত
কোনো ব্যাংকে যত টাকা থাকে, তার মাত্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি ব্যাংকের উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের। বাকি ৯০ শতাংশ সাধারণ জনগণের। অথচ সাধারণ জনগণ বা আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে তেমন সুবিধা পান না। সব সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন ব্যাংকের পরিচালকরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী, ব্যাংকের পরিচালকরা নিজ ব্যাংক থেকে তাদের মোট শেয়ারের ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ নিতে পারেন না। তবে নিজ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার কোটা শেষ হয়ে গেলে তখন ভিন্ন পথের আশ্রয় নেন ব্যাংক পরিচালকরা। কখনো বেনামে, আবার কখনো অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেন তারা। এছাড়া অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার সীমা না থাকায় সেটাকে কাজে লাগান তারা। এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের পরিচালকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঋণ নেন। এতে ঋণ পাওয়ার উপযোগী সাধারণ গ্রাহকরা বঞ্চিত হন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, পরিচালকরা এখন শুধু ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ নিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, পাশাপাশি তারা সিএসআরের (করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) টাকায়ও ভাগ বসান। নিজেদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সিএসআরের টাকা নিয়ে নিচ্ছেন। আর ব্যাংক সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজ পেতে ভেন্ডর ও থার্ড পার্টি হিসেবে একাধিক কোম্পানি খুলেছেন অনেকে। ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন। টাকার বিনিময়ে অনেককে চাকরি দিচ্ছেন পরিচালকরা।
এছাড়া ঋণ মঞ্জুর, সুদ মওকুফ ও ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রেও নানা সুবিধা নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এ ঋণ যাতে আর ফেরত দিতে না হয়, তার সব ধরনের বন্দোবস্ত করেছেন তারা। তাদের ঋণ খেলাপি হওয়ার আগেই পুনর্গঠন করা হয়, যে কারণে ঋণখেলাপির তালিকায় তাদের নামও আসে না।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ঋণ নেয়ার জন্য আবেদন করতে চাপ দেয়। আর সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঞ্জুর হওয়া ঋণের টাকা নিয়ে নেন ব্যাংকের প্রভাবশালী অনেক পরিচালক। এভাবে ব্যবসায়ীদের কৌশলে ঠকান ব্যাংকের পরিচালকরা। এতে প্রাপ্য থেকে অনেক সময় বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। তাদের প্রাপ্য নিশ্চিত হওয়া উচিত।
Posted ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২১
bankbimaarthonity.com | Sajeed
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com