নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ২৫ মে ২০২৫ প্রিন্ট ১৮৮৭ বার পঠিত
ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাইব্রিড প্লাটফর্মে (স্বশরীরে ও অনলাইনে উপস্থিতি) অনুষ্ঠিত সভায় শেয়ারহোল্ডারদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং কোন প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ায় আবারও এজিএমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলামের সমালোচনা আরও জোড়ালো হচ্ছে। গত সরকারের আমলেও প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করে নানান দুর্নীতি করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট এক প্রশ্নবিদ্ধ জরুরি বোর্ডসভার মাধ্যমে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নতুন ৬ জন পরিচালক অন্তর্ভুক্ত হন যার মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম অন্যতম। ব্যবস্থাপনা পর্ষদ পরিবর্তনের পর ২০২০ সালের এজিএমের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদন নেয় এখন কিন্তু একই সাথে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ৫ বছরের বার্ষিক সাধারণ সভারই অনুমোদন নিতে পারত। এ ক্ষেত্রেও চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলামের দক্ষতা এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স অডিটরের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং আগের পরিচালনা পর্ষদের অনেক মেম্বার এখনও আছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ আছে। একজন নন-কমপ্লায়েন্স লোককে কেনই বা এ পদে বসানো হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
২০২০ সালের এজিএম গতকাল অনুষ্ঠিত হলো যেখানে শেয়ারহোল্ডারদের কোনরকম তথ্য জানানো হয়নি। ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ফারইস্ট লাইফ ইন্সুরেন্সের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২০ সালের পারফরমেন্স খুবই হতাশাজনক।
১ম বছর প্রিমিয়ামে ২০১৯ সালের ৩১৫ কোটি টাকা থেকে (৯৭) কোটি টাকা বা (৩০.৮%) কমে ২০২০ সালে হয়েছে ২১৮ কোটি টাকা। মোট প্রিমিয়াম ১,০৫৪ কোটি টাকা থেকে (৮৩) কোটি টাকা বা (৭.৯%) কমে হয়েছে ৯৭১ কোটি টাকা।
লাইফ ফান্ড ৩,৩৭২ কোটি টাকা থেকে অবিশ্বাস্য ও অস্বাভাবিকভাবে (৮৯৪) কোটি টাকা বা (২৬.৬%) কমে হয়েছে ২,৪৭৪ কোটি টাকা। ক্লেইম ৭১৬ কোটি টাকা থেকে অবিশ্বাস্য ও অস্বাভাবিকভাবে ৯৪১ কোটি টাকা বা ১৩১.৪% বেড়ে হয়েছে ১,৬৫৬ কোটি টাকা। এই ১,৬৫৬ কোটি টাকা ২০২০ সালের মোট আয় এর ১৭০%। আউট স্ট্যান্ডিং ক্লেইম ২০২০ সালে ৪৪ কোটি টাকা থেকে অবিশ্বাস্য ও অস্বাভাবিকভাবে ৮১০ কোটি টাকা বা ১৮২২% বেড়ে হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ কোম্পানি ক্লেইম পরিশোধ করার সক্ষমতা হারিয়েছে।
২০২০ সালের মতো ১,৬৫৬ কোটি টাকা ক্লেইম পরিশোধ করতে হলে দুই বছরেই লাইফ ফান্ড শূন্য হয়ে কোম্পানির দেওলিয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায় গত সরকারের আমলে লুটপাটের অন্যতম দোসর এস আলম গ্রুপের মালিক পলাতক সাইফুল আলম মাসুদের বহু অপকর্মের সহযোগী মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি এবার খোলস পাল্টে বিএনপি সাংসদ হতে চান বলে জানা যায়। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ছিলেন এই ফখরুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন দেশ বিদেশে এস আলম গ্রুপের নানা আর্থিক অনিয়মের সহযোগী ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এস আলম গ্রুপের মালিকের সঙ্গে তার ছবিও ফেসবুকে ঘুরছে। মো. ফখরুল ইসলাম আবাসন খাতের সংগঠন ঢাকা সাউথ ডেভেলপারস ফোরামের সভাপতি হিসাবেও আছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মতই ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকেও ধ্বংস করবেন মো. ফখরুল ইসলাম।
নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ার ও বন্ড এ ৭১৮ কোটি টাকা ইনভেস্ট করা হয়েছে যার সাফিসিয়েন্ট এভিডেন্স নেই। কোন কোন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়েছে তার তালিকা, ক্রয় মূল্য, বিক্রয় মুল্য সংক্রান্ত তথ্য নেই। উক্ত ইনভেস্টমেন্ট এর মধ্যে বাংলালায়ন কমিউনিকেশন লি: এ ৯৮.৬৩ কোটি টাকা, পিএফআই সিকিউরিটিজ লি: ১৮৫.৩১ কোটি টাকা ইনভেস্ট করা হয়েছে যা অলাভজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ।
অন্যান্য অগ্রিম ১২২.২৫ কোটি টাকার যথার্থ তথ্য প্রমাণ নেই। ফলে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এডভান্স ফর কনস্ট্রাকশন ল্যান্ড এন্ড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ২৯৯ কোটি টাকার যথার্থ তথ্য প্রমাণ নেই। ফলে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ১৮৪(৩) ধারায় সুস্পষ্ট ভাবে বলা রয়েছে “নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বিধৃত প্রত্যেক সংরক্ষিত মন্তব্য, বিশেষণযুক্ত মন্তব্য অথবা প্রতিকুল মন্তব্য সম্পর্কে পরিচালক পরিষদ উহার প্রতিবেদনে, পরিপূর্ণ তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রদান করতেও বাধ্য থাকবে”। কিন্তু ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স তা না মানায় তাদের বার্ষিক সাধারণ সভার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
Posted ০৯:১৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com