বৃহস্পতিবার ৪ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
এনআরবি ইসলামিক লাইফ

অভিজ্ঞতার মিথ্যা তথ্যে সিইও শাহ্ জামাল!

সোমবার, ০২ জুন ২০২৫   প্রিন্ট   ৪৩৮ বার পঠিত

অভিজ্ঞতার মিথ্যা তথ্যে সিইও  শাহ্ জামাল!

পেশাগত জীবনে কোনো কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীর (সিইও) অব্যবহিত নিম্নপদে দায়িত্ব পালন না করেই, মিথ্যা তথ্য দিয়ে এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও পদ বাগিয়ে নিয়েছেন শাহ জামাল হাওলাদার। ২০২১ সালে এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও পদে নিয়োগ পান তিনি। ওই সময়ে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাহী পদে নিয়োগ পেতে কোন বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে বা উহার অব্যবহিত নিম্নপদে অন্যূন তিন বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল।

প্রবিধান অনুযায়ী, চাকরির অভিজ্ঞতার ওই শর্ত পূরণ না করেই সিইও পদে নিয়োগ পান শাহ জামাল। আইন অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত নিম্নপদে তিন বছরের অভিজ্ঞতা তার ছিল না।

আইডিআরএ দেয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে দায়িত্ব পালন করেন শাহ জামাল হাওলাদার। ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১৬ মার্চ পদত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত তিনি কোম্পানিটির এ পদে কাজ করেছেন। অথচ উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বেস্ট লাইফের মুখ্য নির্বাহীর নিম্নপদ নয়। কোম্পানিটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ তথা মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পরবর্তী নিম্নপদ ‘অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এডিশনাল এমডি)’ ।
জানা যায়, ২০১৩ সালে অনুমোদন লাভের পর থেকে বেস্ট লাইফের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ ছিল এবং ২০২১ সালের ১৬ মার্চ শাহ জামাল পদত্যাগের আগ পর্যন্ত কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ছিলেন মো. খোরশেদ আলম। শাহ জামাল হাওলাদার অভিজ্ঞতা হিসেবে আরও উল্লেখ করেন, এর আগে প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফের ঊর্ধ্বতন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন। কোম্পানিটিতে তিনি যোগদান করেন ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে।

অথচ এই কোম্পানিটিতেও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদ মুখ্য নির্বাহীর অব্যবহিত নিম্নপদ নয়, এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ। প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফেরও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ ‘অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এডিশনাল এমডি)’। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালে প্রোটেক্টিভ ইসলামি লাইফের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন কোম্পানিটির বর্তমান মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কিশোর বিশ্বাস। এর আগে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফে মুখ্য নির্বাহীর অব্যবহিত নিম্নপদে চাকরির অভিজ্ঞতার বিষয়ে দুটি সনদ দাখিল করেছেন শাহ জামাল হাওলাদার। সনদ দুটি ইস্যু করা হয়েছে ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এবং একই বছরের ১৬ জুন। দুটি সনদেই স্বাক্ষর রয়েছে কোম্পানিটির তৎকালীন মুখ্য নির্বাহী মো. ইউসুফ আলী মৃধার। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়েছে, শাহ জামাল হাওলাদার ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (উন্নয়ন প্রশাসন ও মার্কেটিং) পদে যোগদান করেন, যা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীর অব্যবহিত দ্বিতীয় পদ। এতে আরও বলা হয়, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফে শাহ জামালের মোট কর্মঅভিজ্ঞতা ৫ বছর ৯ মাস এবং কোম্পানিতে তার ক্যারিয়ারের পুরো সময়টি মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত দ্বিতীয় পদে কর্মরত ছিলেন।

অপরদিকে ২০২০ সালের ১৬ জুন ইস্যু করা আরেক চিঠিতে বলা হয়, শাহ জামাল হাওলাদার সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (উন্নয়ন প্রশাসন ও মার্কেটিং) পদে ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফে যোগদান করেন, যা কোম্পানির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তথা মুখ্য নির্বাহীর অব্যবহিত নিম্নপদ। প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত নিম্নপদ অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

শাহ জামাল হাওলাদার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সর্বশেষ চাকরি করেছেন বেস্ট লাইফে। এর আগে চাকরি করেছেন প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফে, সিনিয়র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে। দু’টি কোম্পানির একটিও তাকে ছাড়পত্র দেয়নি। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন ও সাময়িক অব্যাহতির নোটিশ দেয়ার পরই প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ থেকে পদত্যাগ করেন শাহ জামাল।

প্রোটেক্টি ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৩ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আত্মসাতের অভিযোগ ২০২০ সালের ১৭ জুন তাকে বহিষ্কার করা হয়। ওই দিনই তিনি কোম্পানি থেকে পদত্যাগের জন্য পত্র জমা দেন। তবে পদত্যাগ কার্যকরের আবেদন করেন ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে। প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ থেকে শাহ জামালের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- নরসিংদী অফিস থেকে ৮ লাখ ৬০ হাজার ৩৭৪ টাকা হিসাবের গড়মিল; দু’জন ড্রাইভার নিয়োগ দেখিয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন করলেও বাস্তবে কোন ড্রাইভারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি; ক্যাশিয়ারের বেতন বাবদ টাকা উত্তোলন করা হলেও কোন ক্যাশিয়ার নিয়োগ দেয়া হয়নি; ভোলা ব্রাঞ্চের গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া প্রিমিয়ামের ১৩ লাখ টাকা কোম্পানির একাউন্টে জমা দেয়া হয়নি; মতিঝিল শাখায় ২৭ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে পিআর কেটে কোম্পানির একাউন্টে টাকা জমা করা হয় পরের বছরের জুন মাসে, যা বীমা আইনের লঙ্ঘন। শাহ জামালের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ আত্মসাতের এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানো ও দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহিত প্রদানের নোটিশে স্বাক্ষর করেন প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফের তৎকালীন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী মৃধা।#

 

Facebook Comments Box

Posted ০১:৪৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০২ জুন ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com