নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট

২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে দেশের নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো ৩৭২ কোটি ১৯ লাখ টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে বলে জানিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। যা উত্থাপিত মোট বীমা দাবির ৯.৩৭ শতাংশ। বিগত ২০২৪ সালে দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল ৩২ শতাংশ বা এক হাজার ২৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
আইডিআরএ’তে পাঠানো দেশের ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির অনিরীক্ষিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর মোট বীমা দাবির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৭১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এরমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৭২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অনিষ্পন্ন রয়েছে ৩ হাজার ৫৯৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বীমা দাবি।
আইডিআরএ’র তথ্যে দেখা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানির দাবি নিষ্পত্তির হারে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকার দাবির বিপরীতে মাত্র ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। এতে তাদের নিষ্পত্তির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ।
অন্যদিকে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ২৭ কোটি ১১ লাখ টাকার দাবির বিপরীতে ১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে, যা মোট দাবির ৪০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি ৪২ লাখ টাকার দাবির বিপরীতে ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে, যা প্রায় ৩২ শতাংশ।
একই সময়ে বাংলাদেশ কোঅপারেটিভ ইন্স্যুরেন্স ৭ কোটি ২২ লাখ টাকার দাবির বিপরীতে মাত্র ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। এতে তাদের দাবি নিষ্পত্তির হার দাঁড়িয়েছে ১ শতাংশেরও কম।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি)–এর ক্ষেত্রেও দাবি নিষ্পত্তির হার খুব বেশি নয়। আলোচ্য সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে উত্থাপিত দাবির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৬৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর মধ্যে তারা পরিশোধ করেছে ৭৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যা মোট দাবির ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।
কিছু কোম্পানির নিষ্পত্তি তুলনামূলক বেশি তবে কিছু কোম্পানির দাবি নিষ্পত্তির হার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে।
এর মধ্যে রয়েছে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, ইসলামি কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, জনতা ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স। এসব প্রতিষ্ঠানের দাবি নিষ্পত্তির হার অনেক ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৮৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে পিপলস ইন্স্যুরেন্স, ইসলামি ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের দাবি নিষ্পত্তির হার খুবই কম।
এছাড়া শিকদার ইন্স্যুরেন্স আলোচ্য সময়ে কোনো দাবি পরিশোধ করেনি।
আইডিআরএর তথ্যানুযায়ী, ৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকার মধ্যে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স বীমা দাবি বাবদ পরিশোধ করেছে ৪৫ লাখ টাকা, নিষ্পত্তির হার ৪.৭০ শতাংশ।
২৭ কোটি ১১ লাখ টাকার মধ্যে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বা ৪০.৩৫ শতাংশ, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি ৪২ লাখের মধ্যে পরিশোধ করেছে তিন কোটি চার লাখ টাকা বা ৩২.২৭ শতাংশ, ৭ কোটি ২২ লাখ টাকার মধ্যে বাংলাদেশ কোঅপারেটিভ ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ৫ লাখ টাকা , যা মোট দাবির মাত্র ০.৬৯ টাকা।
২৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মধ্যে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ১২ কোটি ৩২ লাখ টাকা বা ৪৪.৫৪ শতাংশ, ৪৭ কোটি ১৭ লাখ টাকার মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করেছে ৬ কোটি ২০ লাখ বা ১৩.১৪ শতাংশ বীমা দাবি, ২২৬৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা বীমা দাবির মধ্যে বাংলাদেশ সাধারণ বীমা কর্পোরেশন পরিশোধ করেছে ৭৭ কোটি ১৯ লাখ বা ৩.৪১ শতাংশ। ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকার মধ্যে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স বীমা দাবি বাবদ পরিশোধ করেছে ৩ কেটি ৭২ লাখ বা ৩৬.৫১ শতাংশ, ৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকার মধ্যে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ২ কোটি ৫৪ লাখ বা ৩১.৭৯ শতাংশ, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি ১৫ লাখ বা ৬৫.৪০ শতাংশ, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ১২ কোটি ৩১ লাখ বা ৫৫. ১০ শতাংশ, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৩৬ লাখ বা ৩.০৪ শতাংশ, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স ২ কোটি ৮৩ লাখ বা ৩১.৪১ শতাংশ, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ৭কোটি ২২লাখ টাকা বা ১২.৭১ শতাংশ, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স ১৫ কোটি ৭৭ লাখ বা ৮৭.২২ শতাংশ, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ১১.৯৭ শতাংশ, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ১১ কোটি ৬৭ লাখ বা ৭৪.২৮ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স ১১ কোটি ২২ লাখ টাকা বা ৩.৫৩ শতাংশ, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স ১২ কোটি ৫৬ লাখ বা ৩.৬৭ শতাংশ, ইসলামি কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স ২৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা ৮৮.১৪ শতাংশ, ইসলামি ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ ২২ লাখ বা ০.৭৭ শতাংশ, জনতা ইন্স্যুরেন্স ৪ কোটি ৪৭ লাখ বা ৮০.৮০.৬৯ শতাংশ।
কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স ২ কোটি ৫৬ লাখ বা ১৫.৩২ শতাংশ, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স ৮৭ লাখ বা ৪ .০২ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ইসলামি ইন্স্যুরেন্স ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা বা ২৮.৯৪ শতাংশ, নিটল ইন্স্যুরেন্স ৮৬ লাখ বা ৪০.৯৫ শতাংশ, নর্দার্ণ ইসলামি ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ৭০ লাখ বা ২.৪০ শতাংশ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ২ কোটি ৮৭ লাখ বা ১২.৩২ শতাংশ, পিপলস ইন্স্যুরেন্স ৫২ লাখ বা ০.৫৯ শতাংশ, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ১৭ কোটি ৯১ লাখ বা ৬০.৬৩ শতাংশ, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স ১৭ কোটি ১৮ লাখ বা ৩১. ০৬ শতাংশ, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ১৬ কোটি ৬৯ লাখ বা ৮.৩৭ শতাংশ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা ৩৪.৩৫ শতাংশ, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ৬ কোটি ৮৬ লাখ বা ১৪.৫৫ শতাংশ, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৫ লাখ বা ০.১৯ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ২০ কোটি ৪১ লাখ বা ১২.৬৭ শতাংশ, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ৪৫ লাখ বা ৫.১৭ শতাংশ, রূপালী ইন্স্যুরেন্স ৬ কোটি বা ৪৯.৪৬ শতাংশ, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স ১২ কোটি ৫ লাখ টাকা বা ২৫.৬৫ শতাংশ, শিকদার ইন্স্যুরেন্স পরিশোধ নেই। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ৭ কোটি ৫১ লাখ বা ৮১.৫৪ শতাংশ, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ৬ কোটি ৮৮ লাখ বা ২৬.০৭ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স ২৭ লাখ বা ১.৫৪ শতাংশ, তাকাফুল ইসলামি ইন্স্যুরেন্স ৭০ লাখ বা ২০.৯৫ শতাংশ, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ৩ কোটি ৪০ লাখ বা ৪৬.৮৩ শতাংশ, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ৯৯ লাখ বা ৫৪.৫২ শতাংশ বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে।
Posted ৮:২৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy


