নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ প্রিন্ট ৪২ বার পঠিত
দেশে বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি। দেশের ৩৬টি ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত খেলাপি ঋণের হার বিশ্লেষণে ব্যাংকিং খাতে গভীর বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোথাও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, কিছু ব্যাংকে তা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। তালিকা অনুযায়ী সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণের হার রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংকে, যার হার ৩.০৯ শতাংশ। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকে ৩.৫৮ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকে ৪.০১ শতাংশ, সিটি ব্যাংকে ৪.৭৬ শতাংশ, ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ৪.৯২ শতাংশ এবং ব্যাংক এশিয়ায় ৫.০০ শতাংশ। এসব ব্যাংক তুলনামূলকভাবে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যম স্তরের ব্যাংকগুলোর মধ্যে মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৫.৪০ শতাংশ, পূবালী ব্যাংকে ৫.৫০ শতাংশ, সাউথইস্ট ব্যাংকে ৬.৭৫ শতাংশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ৬.৮৩ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ৬.৮৩ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে ৭.৬৭ শতাংশ, এনসিসি ব্যাংকে ৮.৩১ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংকে ৮.৪৪ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংকে ৮.৬৩ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংকে ৮.৯১ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংকে ৮.৯৫ শতাংশ এবং যমুনা ব্যাংকে ৯.০৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ রয়েছে। এই ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকি মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে তা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক বেশি খেলাপি ঋণের হার দেখা গেছে ইউসিবিতে ১১.৬৯ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকে ১৩.৪৯ শতাংশ, এসবিএসি ব্যাংকে ১৫.০৪ শতাংশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ১৫.৮৩ শতাংশ, এনআরবিসি ব্যাংকে ১৭.১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ২২.৪৬ শতাংশ। এই পর্যায়ের ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে প্রবেশ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩০.৪৪ শতাংশ, রূপালী ব্যাংকে ৪১.৫৮ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকে ৪৯.৩৪ শতাংশ, এবি ব্যাংকে ৫০.৮৮ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংকে ৫১.৯৯ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকে ৫৩.১২ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকে ৬২.৪৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ রয়েছে। এই হারগুলো ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে কয়েকটি ব্যাংকে, যেখানে খেলাপি ঋণের হার প্রায় সম্পূর্ণ ঋণপোর্টফোলিওকেই গ্রাস করেছে। এসআইবিএল ব্যাংকে এই হার ৮০.৩৮ শতাংশ, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে ৮৪.০১ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ৯৬.২৭ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৯৬.৪৩ শতাংশ এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে সর্বোচ্চ ৯৭.৬৪ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণের এ ধরনের অস্বাভাবিক বৈষম্য কেবল পৃথক ব্যাংকের সমস্যা নয়, বরং এটি গোটা আর্থিক ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্ক সংকেত। দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব এবং যথাযথ তদারকির অভাব এসব কারণ মিলেই পরিস্থিতি জটিল করেছে। তাদের মতে, খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছ ঋণ বিতরণ নীতি এবং দ্রুত পুনর্গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায়, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
Posted ০৬:৫৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Amiyou Rudra
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com