সোমবার ২০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

সাড়া নেই মোটর লায়াবিলিটিজ ইন্স্যুরেন্সে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬   প্রিন্ট   ১৪ বার পঠিত

সাড়া নেই মোটর লায়াবিলিটিজ ইন্স্যুরেন্সে

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বীমা খাতের অংশীজনদের দাবির মুখে গত বছর আগস্টে ‘মোটর লায়াবিলিটিজ ইন্স্যুরেন্স’ নামে থার্ড পার্টি মোটর ইন্স্যুরেন্স চালু হলেও সাড়া নেই গ্রাহকের।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) নতুন আঙ্গিকে এই পলিসি চালু করলেও তা ঐচ্ছিক (অপশনাল) হওয়ায় গ্রাহকদের আগ্রহ খুবই কম। অতীতের তুলনায় প্রিমিয়াম বাড়ার পাশাপাশি দাবি আদায়ের জটিল প্রক্রিয়াও এর জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিয়েছে।

সাধারণ মোটরসাইকেল চালক ও গাড়ি মালিকদের মধ্যে এই বীমা সম্পর্কে সচেতনতা প্রায় নেই বললেই চলে। অনেকেই মনে করছেন, সাবধানী ড্রাইভিংই দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ফলে অতিরিক্ত খরচ করে বীমা করার প্রয়োজন দেখছেন না তারা।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় কেউ নিজ উদ্যোগে এই বীমা করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এছাড়া ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এটি আকর্ষণ হারাচ্ছে।

জানতে চাইলে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান তারেক বলেন, বাধ্যতামূলক না হওয়ার কারণে এই পলিসিটি কিনতে গ্রাহকের আগ্রহ মিলছে না।

ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ মুজতবা সিদ্দিকী বলেন, ব্যাংক বা সরকার বাধ্যতামূলক করলেই কেবলমাত্র গ্রাহক এ ধরনের পলিসি গ্রহণ করে। নইলে নিজে আগ্রহী হয়ে গ্রাহক এ ধরনের বীমা করে না। তবে আইডিআরএ’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যানবাহনের থার্ড পার্টি বীমা না থাকলে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ তে জরিমানার বিধান যুক্ত করতে কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এখনো এটি কার্যকর হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে বীমার ক্ষতিপূরণের সীমা বাড়ানো, দাবি আদায়ের প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা এবং পলিসিটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এটি কেবল একটি কাগুজে পলিসি হিসেবেই রয়ে যাবে।
গত বছরের আগস্টে ‘মোটর লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স’ নামে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী বা আহত যাত্রীদের জন্য ফের মোটর বীমা পলিসি চালুর অনুমোদন দেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

নতুন এই পলিসির আওতায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে। গত বছরের ৭ আগস্ট জারি করা এক সার্কুলারে (নং- নন-লাইফ ১০৫/২০২৫) মোটর লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স নামে এই বীমা পলিসি চালুর ঘোষণা দেয় আইডিআরএ। এর আগে ওই বছরের ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির ১৮৫ তম সভার সুপারিশের আলোকে ৩ আগস্ট কর্তৃপক্ষের ১৮৮ তম সভায় এটি অনুমোদন করা হয়। তবে পলিসিটি অপশনাল বা ঐচ্ছিক হিসেবে চালু করা হয়েছে, অর্থাৎ এটি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়। আইডিআরএ জানিয়েছে, জনগণ তাদের ইচ্ছামতো এই বীমা পলিসি গ্রহণ করতে পারবেন, তবে যদি কেউ তা গ্রহণ না করেন, তাতেও কোনো সমস্যা হবে না।

নতুন এই বীমা পলিসিতে যানবাহনের ধরন এবং সিসি (কিউবিক সেন্টিমিটার) অনুযায়ী প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৫০ সিসির মোটর সাইকেলের জন্য সর্বমোট প্রিমিয়াম দিতে হবে এক হাজার ছয় টাকা। এক্ষেত্রে সিট সংখ্যা ধরা হয়েছে দু’টি। আর ৩৫০ সিসির চার সিটের ত্রিচক্রযানের জন্য সর্বমোট প্রিমিয়াম দিতে হবে এক হাজার ৬৯৬ টাকা।

অপরদিকে ড্রাইভারসহ ৫ সিটের (১৩শ’ সিসির) একটি প্রাইভেট কারের জন্য সর্বমোট প্রিমিয়াম গুণতে হবে দুই হাজার ৭০ টাকা। এ ছাড়াও দুই সিট বিশিষ্ট তিন টনের একটি ট্রাকের জন্য প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার ৬৫১ টাকা।

আইডিআরএ’র সার্কুলার অনুসারে এই পলিসির আওতায় বীমাকৃত যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়লে এবং এ কারণে কোন মৃত্যু হলে এককালীন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

আর দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হলে স্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম হলে জনপ্রতি এককালীন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা বীমা কাভারেজ দেয়া হবে। আর আংশীক স্থায়ী অক্ষমতা তৈরি হলে তফসিলে নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

এ ছাড়াও গুরুতর আহত কিন্তু চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকলে জনপ্রতি এককালীন সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
অপরদিকে দুর্ঘটনায় যানবাহনের ক্ষতি হলে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। এ ছাড়াও আদালতের ফি, সালিশ ফি, আইনী প্রতিনিধিত্ব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফি বাবদ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।

বীমা খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই পলিসি চালু হওয়ার মাধ্যমে দেশের নন-লাইফ বীমা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, এটি বীমা পেনিট্রেশন বৃদ্ধি করতে সহায়ক হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবে। এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হবে, যা একটি বড় উপকারিতা। তবে পলিসিটি সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক করা না হলে এটি পেনিট্রেশন বৃদ্ধিতে প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনবে না বলে মনে করছেন তারা। যে কারণে বীমা পলিসিটিকে আগের মতো বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন অংশীজনরা।

এর আগে ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর সার্কুলার নং- নন-লাইফ ৮২/২০২০ জারি করে যানবাহনের ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি বীমা পরিকল্প বাতিল করে আইডিআরএ। ওই বছরের অক্টোবরে মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ রহিত করে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ জারির মাধ্যমে সরকার যানবাহনের থার্ড পার্টি বীমা তুলে দিলে এই সিদ্ধান্ত নেয় আইডিআরএ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারী মোটরসাইকেল, গাড়ি, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের মোট যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৫৬ লাখ ৬১ হাজার।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানিয়েছে, বীমা করা বাধ্যতামূলক না হওয়ায় দেশের সড়ক -মহাসড়কে চলাচলকারী প্রায় ৫৭ লক্ষ যানবাহন থেকে প্রতিবছর ৮৭৮ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ ৮৪৯ কোটি টাকা এবং স্ট্যাম্প ডিউটি ২৮ কোটি টাকা।

Facebook Comments Box
×

Posted ০১:১০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com