বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

আর্থিক সংকটের গভীরে ঢাকা ডাইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   প্রিন্ট   ২০৯ বার পঠিত

আর্থিক সংকটের গভীরে ঢাকা ডাইং

লোকসানে থাকা ঢাকা ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের আর্থিক খড়া কাটছেই না। কোম্পানির সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার অবনতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, টানা লোকসান, বিক্রি হ্রাস, ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূলধন কাঠামোর দুর্বলতার কারণে কোম্পানিটি একটি গভীর আর্থিক চাপে রয়েছে।

প্রথমেই পরিচালন কার্যক্রমের দিকে তাকালে উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৫ অর্থবছরে কোম্পানির টার্নওভার নেমে এসেছে মাত্র ২২.৩৪ কোটি টাকায় যা আগের বছর ছিল ৩২.৪২ কোটি টাকা এবং তার আগের বছর ৫২.৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে বিক্রি অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। বিক্রি কমলেও উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানির মোট মুনাফা কাঠামো ভেঙে পড়েছে। টার্নওভারের তুলনায় বিক্রয় ব্যয় ২০০ শতাংশেরও বেশি হয়ে যাওয়ায় গ্রস মার্জিন কার্যত নেতিবাচক অবস্থায় পৌঁছেছে।

এই দুর্বলতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিচালন মুনাফায়। ২০২৫ অর্থবছরে কোম্পানির অপারেটিং লস দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪.৬০ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরেও লোকসান ছিল। অপারেটিং ব্যয় কমার বদলে বিক্রির তুলনায় আরও ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে যা ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। প্রশাসনিক ব্যয় ও উৎপাদন ওভারহেড তুলনামূলকভাবে বেড়েছে, অথচ বিক্রি ও উৎপাদনের সক্ষমতা ক্রমাগত কমছে।

চূড়ান্ত মুনাফা চিত্র আরও হতাশাজনক। কর পরবর্তী নিট লোকসান ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০.৭৬ কোটি টাকা যা আগের বছর ২২.৫২ কোটি টাকার লোকসানের দ্বিগুণেরও বেশি। ধারাবাহিক লোকসানের ফলে কোম্পানির রিটেইন্ড আর্নিংস গভীরভাবে নেতিবাচক অবস্থায় চলে গেছে এবং শেয়ারহোল্ডার ইক্যুইটি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। শেয়ারপ্রতি আয়ও মারাত্মকভাবে নেতিবাচক, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও দুর্বল করছে।

সম্পদ ও দায় কাঠামো পর্যালোচনায়ও ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ কমে এসেছে, বিশেষ করে কারেন্ট অ্যাসেটস, ইনভেন্টরি এবং ট্রেড রিসিভেবলের বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা যায়। নগদ ও ব্যাংক ব্যালান্স অত্যন্ত সীমিত, যা দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। অন্যদিকে মোট দায় বাড়তির দিকে, বিশেষ করে ট্রেড পে-এবল ও বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি দায়ের চাপ স্পষ্ট।

শেয়ার ধারণ কাঠামোতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ বেড়েছে কিন্তু করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারধারীদের অংশ কমেছে যা বড় বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। লভ্যাংশ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক রিটার্নের সম্ভাবনাও নেই। এ বিষয়ে কয়েকদিন ধরে কোম্পানি সচিবের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অফিসে গেলে ‘তিনি বাইরে আছেন’ বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ঢাকা ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড বর্তমানে একটি গুরুতর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিক্রি হ্রাস, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, ধারাবাহিক লোকসান এবং দুর্বল তারল্য অবস্থান কোম্পানির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও টিকে থাকা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। অবিলম্বে কার্যকর পুনর্গঠন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়িক কৌশলে আমূল পরিবর্তন না আনলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

Facebook Comments Box
×

Posted ০৬:২০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০ 
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com