মঙ্গলবার ২১ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সম্পদ মূল্য বেড়েছে ব্যাংক খাতে

বিনিয়োগ বাড়লে ঘুরে দাঁড়াবে বাজার

আদম মালেক   |   সোমবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১   |   প্রিন্ট   |   939 বার পঠিত

বিনিয়োগ বাড়লে ঘুরে দাঁড়াবে বাজার

এক সময় বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে আগ্রহের তালিকায় ছিল ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলো। ঋণ খেলাপিসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও ২০১০ সালের মহাধসের কারণে দুর্দশায় পড়ে এ খাত। পাশাপাশি এ খাতের অধিকাংশ কোম্পানি বিনিয়োগকারীদেরকে সন্তোষজনকহারে ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। এজন্য এ খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমায় অনেক কোম্পানির শেয়ার দর ফেসভ্যালুর কাছাকাছি চলে আসে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলোর পিই রেশিও বিবেচনায় বিনিয়োগ উপযোগী হওয়া সত্বেও ঘুরে দাঁড়াতে পারছেনা। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেনে। এরপরও ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলোর সম্পদ মূল্য বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় ২৮ ব্যাংকের সম্পদমূল্য বেড়েছে যা বাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার দর বিনিয়োগ অনুকুলে। সম্পদমুল্য এবং পিই রেশিও হিসেবে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ইতিবাচক। বিনিয়োগকারীদের এ খাতে অংশগ্রহণ বাড়লে ঘুরে দাঁড়াতে পারে ব্যাংক খাত।
এদিকে ডিসএসই সূত্রে জানা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৮টির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য মাইনাসে রয়েছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক এবং অপরিবর্তিত রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য বৃদ্ধির শীর্ষে ইস্টার্ন ব্যাংক।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত সম্পদ মূল্য সবচেয়ে বেশী বেড়েছে ইস্টার্ন ব্যাংকে আর সবচেয়ে কম বেড়েছে আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে। ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য ছিল ২৯ টাকা ৮১ পয়সা। পরের বছর একই সময়ে সম্পদ মূল্য দাঁড়ায় ৩৫ টাকা ৮৪ পয়সা। অর্থাৎ ১ বছরে ব্যাংকটির সম্পদ বেড়েছে ৬ টাকা ৩ পয়সা। ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য ছিল ২১ টাকা ১৩ পয়সা। পরের বছরের একই সময়ে শেয়ারটির সম্পদ মূল্য ছিল ২১ টাকা ১৮ পয়সা। অর্থাৎ ১ বছরে শেয়ারটির সম্পদ মূল্য বেড়েছে মাত্র ৫ পয়সা।

তাছাড়া ৩০ শে সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য এবি ব্যাংকে ৮৯ পয়সা বেড়ে ৩১ টাকা ৬ পয়সায়; ব্যাংক এশিয়ায় ১ টাকা ৬৮ পয়সা বেড়ে ২৩ টাকা ২ পয়সায়; ব্র্যাক ব্যাংকে ২ টাকা ৪৪ পযসা বেড়ে ৩৩ টাকা ৮১ পয়সায়; সিটি ব্যাংকে ২ টাকা ১২ পয়সা বেড়ে ২৬ টাকা ৯১ পয়সায়; ঢাকা ব্যাংকে ৮৯ পয়সা বেড়ে ২০ টাকা ৮৬ পয়সায়; ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ১ টাকা ৯১ পয়সা বেড়ে ৫৪ টাকা ৭৮ পয়সায়; এক্সিম ব্যাংকে ১ টাকা ৬৮ পয়সা বেড়ে ২১ টাকা ১০ পয়সায়; ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ২ টাকা ৩২ পয়সা বেড়ে ১৭ টাকা ৫৭ পয়সা|

আইএফআইসি ব্যাংকে ১ টাকা ১৬ পয়সা বেড়ে ১৭ টাকা ৯ পয়সায়; ইসলামী ব্যাংকে ২ টাকা ৫৩ পয়সা বেড়ে ৩৮ টাকা ২০ পয়সায়; যমুনা ব্যাংকে ৫ টাকা ৩৫ পয়সা বেড়ে ২৭ টাকা ৩৭ পয়সায়; মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ৪০ পয়সা বেড়ে ২২ টাকা ৬৮ পয়সায়; মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ৫৬ পয়সা বেড়ে ২৩ টাকা ৩৪ পয়সায়; ন্যাশনাল ব্যাংকে ১ টাকা ৪৬ পয়সা বেড়ে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সায়; এনসিসি ব্যাংকে ৯১ পয়সা বেড়ে ২১ টাকা ৩০ পয়সায়; ওয়ান ব্যাংকে ১ টাকা ৬ পয়সা বেড়ে ১৮ টাকা ৯৫ পয়সায়; প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৩ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে ২০ টাকা ৬২ পয়সা|

প্রাইম ব্যাংকে ৮ পয়সা বেড়ে ২৩ টাকা ৩৩ পয়সায়; পূবালী ব্যাংকে ৪ টাকা ৮৬ পয়সা বেড়ে ৩৩ টাকা ৭ পয়সায়; রুপালী ব্যাংকে ২ টাকা ১৫ পয়সা বেড়ে ৪২ টাকা ৫ পয়সায়; শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে ১ টাকা ৪১ পয়সা বেড়ে ১৭ টাকা ৯২ পয়সায়; সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকে ১ টাকা ৬৮ পয়সা বেড়ে ১৯ টাকা ২২ পয়সায; সাউথ ইস্ট ব্যাংকে ২ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে ২৯ টাকা ১৪ পয়সায়; ট্রাস্ট ব্যাংকে ৪ টাকা ৬৪ পয়সা বেড়ে ২৭ টাকা ৭৬ পয়সায়; ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে ৩ টাকা ৭৮ পয়সা বেড়ে ২৮ টাকা ৮১ পয়সায়; উত্তরা ব্যাংকে ৩ টাকা ৬৮ পয়সা বেড়ে ৩৩ টাকা ৮৭ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সালে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্যে লোকাসান ছিল ১৬ টাকা ৯৬ পয়সা। পরের বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এই লোকাসান আরও ৪৫ পয়সা বেড়ে ১৭ টাকা ৪১ পয়সা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাত নানাবিধ সংকটের মধ্যে রয়েছে। প্রতিনিয়ত খেলাপি ঋণ বাড়ছে। তারপরও ব্যাংকই অর্থনীতির মূল ভিত্তি। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের থেকে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী। সংকটের মধ্যেও ব্যাংকগুলোর সম্পদের পরিমাণ বাড়া ভালো লক্ষণ।

ডিএসইর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একসময় ব্যাংক এ বাজারের প্রাণ হিসেবে বিবেচিত হতো। পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের অবদান কিছুটা কমেছে। কিন্তু এখনও পুঁজিবাজারের উত্থান-পতনে ব্যাংক গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যাংক খাতের শেয়ারের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়।

 

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।