নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬ প্রিন্ট ৫৯ বার পঠিত
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়, প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। চুক্তিতে এমন উপাদান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ চুক্তির বিষয়ে বর্তমান সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। যদিও বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার এ চুক্তি তাদের মেয়াদের শেষ সময় তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষর করেছে এবং এর নানা শর্ত নিয়ে বর্তমান সরকারের আপত্তির শঙ্কা করেছিলেন অনেকে।
মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দেশটি থেকে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের একটি।
এ সময় চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি এমন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো স্বাক্ষর হয়েছে, সব চুক্তিতেই সাধারণভাবে দুটো পক্ষ থাকে। কয়েকটি ধারা একপক্ষের খুব অনুকূলে হয়। আর কয়েকটি ধারা আরেক পক্ষের খুব অনুকূলে হয়। দুই পক্ষই চেষ্টা করে আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে যেখানে উভয়ের জন্য একটা উইন-উইন সিচুয়েশন হয়। এই চুক্তির মধ্যে অনেক ধারা আছে যেগুলোর ওপরে আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্কটাকে আগামী দিনে জোরদার করতে পারি।
তিনি বলেন, আমি এটিকে হোলসেল নেগেটিভ বা হোলসেল পজিটিভ এই দৃষ্টিকোণ থেকে এখনও এভাবে দেখছি না। একটা চুক্তি হয়েছে, এটি একটি বাস্তবতা।
তিনি বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে চুক্তির কথা বলিনি, আমি যেটা বলেছিলাম সেটি হলো, যে আমেরিকান উচ্চতর আদালতে টেরিফের যে ধারাটি ইমারজেন্সি পাওয়ারের যে ধারায় টেরিফ ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারা এই টেরিফ ধার্য করাকে সমর্থন করে না বলার পরে পরিস্থিতিটা বিকাশমান। আমরা বিকাশমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এটি ছিল আমার কথা।
চুক্তি নিয়ে আপনার সরকারের সিদ্ধান্তটা কি এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো একটা হয়েছে এখানে তো সিদ্ধান্তের কিছু নেই। এই চুক্তি তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ দুই সরকারের মধ্যে চুক্তি হয়েছে এটা তো রাষ্ট্রীয় চুক্তি। সুতরাং এই চুক্তিতে যদি আপনারা কোনো কিছু দেখেন খারাপ দেখেন সেটা আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন।
আরেকটা জিনিস আমি বলি কোনো চুক্তি এন্ড অব লাইফ না জীবনের সর্বশেষ কিছু না। প্রত্যেকটা চুক্তিতে সেলফ কেয়ারিং এর জন্য তার নিজস্ব কিছু ধারা থাকে। সেখানে এরকম যদি আমাদের কাছে কিছু প্রতীয়মান হয়। যে এই ধারাটার সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন দরকার। সেখানে ফারদার নেগোসিয়েশনের স্কোপ তো সবসময় রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমার অনুরোধ হচ্ছে, এটি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবেন না। আপনারা যদি কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা প্রশ্ন দেখেন, আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আমরা বিষয়টি দেখবো। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
Posted ০৩:১৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com