নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট
আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে আবারও লুৎফর রহমান বাদল নিযুক্ত হতে যাচ্ছেন বলে খবর প্রচার হয়েছে, আর এ খবরে নাখোশ হয়েছে পরিচালনা পর্ষদের একাংশ। সূত্র জানায়, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ একটি গ্রুপ লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং নাম প্রকাশ না করে বাংলাদেশ ব্যাংকেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে লুৎফর রহমান বাদলের নিযুক্ত হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু আইএফআইসি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও লুৎফর রহমানের পক্ষ থেকে জানা যায়, ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হুসেইন, এমডি সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, ডিএমডি শেখ আক্তার উদ্দীন আহমেদ-এর নেতৃত্বাধীন গ্রুপ চাচ্ছে না লুৎফর রহমান বাদল আবারও চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। এ নিয়ে গ্রুপটি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও তার বিরুদ্ধে অডিট রিপোর্ট এবং ঋণ সংক্রান্ত নথিপত্র পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইএফআইসি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ একটি গ্রুপ যে অডিট রিপোর্ট মিডিয়াতে পাঠিয়েছে তাতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর মো. সহিদুর রহমান ও মো. জুলফিকার হাইদার নামক দুই ব্যক্তির নামে কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ২ কোটি টাকা করে ‘আমার বাড়ি লোন’ এবং ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রিমিয়াম ওভারড্রাফট মঞ্জুর করা হয়। আরেকজন মো. নাজমুল হাসানের নামে ৫৪ লাখ টাকার ঋণ দেওয়া হয়। মোট তদন্তাধীন ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তদন্তে দেখা গেছে, এই দুই প্রধান ঋণগ্রহীতা প্রকৃতপক্ষে এলআর গ্রুপের সাবেক কর্মচারী। ব্যাংকের এক গ্রুপ দাবি করে এই ঋণের টাকা মূলত লুৎফর রহমানের ব্যক্তিগত একাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। লুৎফর রহমান বাদলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি বিক্রির বায়না হয় ২০২২ সালে এবং ২০২৪ সালে ক্রেতা আমাকে অর্থ শোধ করে। কিন্তু তারা ঋণ নিয়েছে কিনা তা তো আমার দেখার কথা নয়।’ তথ্য প্রমাণের স্বার্থে বিভিন্ন সময়ের ব্যাংক লেনদেনের কপি তিনি প্রতিবেদককে দেন।
আরেকটি নথিতে দেখা যায়, ব্যাংকের ৯২৭তম বোর্ড সভায় এবং পরবর্তীতে ৯৩৬তম সভায় ব্যাংকের দুটি উচ্চমূল্যের গাড়ি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়। রিপোর্টে দেখা যায়, একটি টয়োটা ক্রাউন স্যালুন যার ক্রয়মূল্য ছিল ২৫ লক্ষ টাকা এবং একটি টয়োটা প্রাডো ফোর হুইল ড্রাইভ যার ক্রয়মূল্য ছিল ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা, এই দুটি গাড়িই জনগণের আমানতের অর্থে কেনা হয়েছিল ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য। কিন্তু সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লুৎফর রহমান মৌখিক নির্দেশে কোনো আনুষ্ঠানিক বরাদ্দপত্র বা অনুমোদন ছাড়াই এই গাড়িগুলো ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতে থাকেন বলে একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে লুৎফর রহমান বলেন, মৌখিক নির্দেশে তো অফিশিয়াল কাজ হওয়ার কথা না। আমি তো দেশেই ছিলাম না, তাহলে গাড়ি ব্যবহার করলাম কীভাবে? তথ্য প্রমাণের জন্য তিনি পাসপোর্ট-ভিসার কপিও প্রতিবেদককে দেখান। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সময় ব্যাংক ছিল সালমান এফ রহমানের দখলে, তাহলে আমাকে গাড়ি দেয় কীভাবে? যারা এখন ব্যাংক দখলে রাখার চেষ্টা করছেন তারাই আমার নামে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হুসেইন ও ডিএমডি শেখ আক্তার উদ্দীন আহমেদ এই গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তারা এমডিকেও তাদের দলে নিয়ে এসব অপতথ্য বিভিন্ন জায়গায় ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হুসেইন ও ডিএমডি শেখ আক্তার উদ্দীন আহমেদ-এর মন্তব্য জানতে অফিসে যোগাযোগ করা হলে তাদের দেখা মেলেনি। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মনসুর মোস্তফাও ফোন ধরেননি এবং এসএমএস-এর উত্তর দেননি। ব্যাংকের মূখপাত্র ডিএমডি রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি ক্ষীপ্ত হয়ে বলেন, ‘আমি গাড়ি-ঘোড়ার বিষয় দেখি না, কিছু বলতে পারবো না।’ ব্যাংকের মুখপাত্র হয়ে ফোন ধরেন না বা সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন না কেন- প্রশ্নের জবাবে তিনি উত্তেজিত হয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন। মন্তব্য নেওয়ার জন্য জনসংযোগ কর্মকর্তা এহতেসামকে ফোন দিলে তিনিও এসব বিষয়ে জ্ঞাত নন বলে জানান।
তবে আইএফআইসি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সমস্যা আরও স্পষ্ট হয় ঈদের আগে যখন বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আইএফআইসি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পর্যবেক্ষক অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি দেখবেন এবং পর্যালোচনা করবেন, যদি কোন ব্যবস্থা নিতে হয় তাহলে পরবর্তীতে তা দেখা যাবে।
Posted` ১০:৩০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com