কামারুন-নাহার-মুকুল
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৬ বার পঠিত
আজ ২০ অক্টোবর, দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ২০০১ সালের এই দিনে ইহলোক ত্যাগ করেন।
মুস্তাফিজুর রহমান ১৯৪৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়ো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৌলভী হাবিবুর রহমান ও মাতা বিবি আমেনার একমাত্র পুত্রসন্তান তিনি।
শিক্ষা জীবনে প্রাথমিক স্তরে সরকারি বৃত্তি লাভের মধ্য দিয়ে শুরুতেই তিনি মেধার স্বাক্ষর রাখেন। মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন সমাপনের পর একটি দিনও থেমে থাকেননি। জীবিকার সন্ধানে খুঁজে নেন প্রথম কর্মস্থল বহুজাতিক কোম্পানি জেমস ফিনলে। পেশাগত জীবনে অধ্যবসায়, সংযম, পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয়ে নিজেকে অনাগত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলেন। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৫ সালে ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে তিনি রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রূপালী ইন্স্যুরেন্স এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকসহ বহু আর্থিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
তিনি বেশ কয়েকটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছেন। তার সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দৈনিক রুপালী, সাপ্তাহিক সন্দ্বীপ, সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর, সাপ্তাহিক প্রিয় খেলা, মাসিক গোলাপী, মাসিক ব্যাংকার ও দ্য উইকলি বাংলাদেশ নিউজ।
তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন থেকে নির্বাচিত হন।
তিনি আবাহনী ক্লাবের সহ-সভাপতি, ধানমন্ডি ক্লাবের সহ-সভাপতি ও মেরিনার্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত সন্দ্বীপ সমিতি, ঢাকার সভাপতি ছিলেন তিনি। শিক্ষাদীক্ষা, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে অনগ্রসর জনপদ সন্দ্বীপে স্ব-উদ্যোগে নিজ নামে ১১টি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সাগরবেষ্টিত এ দ্বীপের উন্নয়নে তার নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা ছিল। তার মতো মানুষ খুব কমই জন্মায়। তার মতো জনদরদী নেতা আজকাল তেমন চোখে পরেনা। আধুনিক সন্দ্বীপের রূপকার তিনি। সন্দ্বীপের উন্নয়নে তার ভূমিকা সন্দ্বীপবাসী চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সন্দ্বীপ পৌরসভার কুচিয়ামোড়ায় ১৯৯৫ সালে দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
সন্দ্বীপবাসীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার বিনিময়ে দ্বীপের জনগণ তাকে ‘দ্বীপবন্ধু’ খেতাবে অভিষিক্ত করেছেন।
বৈচিত্র্যময় কর্মের অধিকারী দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে শ্রেষ্ঠ ব্যাংকার হিসেবে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পুরস্কার , ১৯৮৮ সালে সাংবাদিক মাওলানা আকরম খাঁ স্মৃতি পুরস্কার এবং ১৯৮৯ সালে জাগৃতিক চলচ্চিত্র পরিষদ কর্তৃক শিল্পী কামরুল হাসান পদক সহ এ ধরনের অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।
বীমা শিল্পে অনন্য অবদানের জন্য আরটিভি বীমা অ্যাওয়ার্ড-২০২২ (মরণোত্তর) পান রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আজীবন স্পেশাল ডাইরেক্টর ও প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক সংসদ সদস্য দ্বীপবন্ধু আলহাজ্ব মুস্তাফিজুর রহমান।
সর্বশেষ অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগ কর্তৃক জাতীয় বীমা দিবস-২০২২ এ শ্রেষ্ঠ বীমা ব্যক্তিত্ব হিসেবে মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।
Posted ০৯:২০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন