শনিবার ২০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
২০২৫ সাল

নন-লাইফে ৭৫ শতাংশ দাবিই অপরিশোধিত

রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬   প্রিন্ট   ২৯২ বার পঠিত

নন-লাইফে ৭৫ শতাংশ দাবিই অপরিশোধিত

দেশের নন-লাইফ বীমা খাতে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট দাবি নিষ্পত্তির গড় হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ দাবিই অপরিশোধিত রয়ে গেছে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রকাশিত অনিরীক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে মোট ৪,৬৭৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার দাবির বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১,১৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে এখনো ৩,৫০৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকার দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন করে ১,৬২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার দাবি উত্থাপিত হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে অনিষ্পন্ন দাবি ছিল ৩,০৫৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। তবে ২০২৫ সালে নিষ্পত্তিকৃত দাবির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কমেছে। ২০২৪ সালে মোট ১,২৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার দাবি নিষ্পত্তি হয়েছিল, যা ছিল মোট দাবির প্রায় ৩২ শতাংশ।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ বীমা কোম্পানির দাবি নিষ্পত্তির হার সন্তোষজনক নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের দাবি জমা থাকলেও তার তুলনায় নিষ্পত্তি কম হওয়ায় গ্রাহকরা সময়মতো পাওনা অর্থ পাচ্ছেন না।

কোম্পানিভেদে দাবি নিষ্পত্তির হারে বড় ধরনের বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। অন্তত ২৬টি কোম্পানির নিষ্পত্তির হার ৫০ শতাংশের নিচে, আর অনেক প্রতিষ্ঠানে তা ২০ শতাংশেরও কম।
তবে কয়েকটি কোম্পানি তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। যেমন—

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সে ১২১.৬৪ কোটি টাকার দাবির বিপরীতে ৮৩.৫১ কোটি টাকা নিষ্পত্তি হয়েছে (৬৮.৬৫%)। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সে ১৭.৯৬ কোটি টাকার মধ্যে ১৬.২৬ কোটি (৯০.৫১%), ইসলামিক কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সে ৪৮.৬৬ কোটির মধ্যে ৪৫.৫০ কোটি (৯৩.৫১%), জনতা ইন্স্যুরেন্সে ২২.২১ কোটির মধ্যে ২১.১৪ কোটি (৯৫.২০%), ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সে ৩৩.২১ কোটির মধ্যে ২৯.৩৫ কোটি (৮৮.৩৮%) এবং ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সে ৯.১৫ কোটির মধ্যে ৭.৪৮ কোটি টাকা (৮১.৭৮%) নিষ্পত্তি হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স (৮২.৩৪%), ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স (৮৩.৮৫%), সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স (৬৯.৭৩%), এশিয়া ইন্স্যুরেন্স (৬৪.৭৯%), কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স (৬৪.৭১%) এবং কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স (৬০.২৮%) মাঝারি পর্যায়ের নিষ্পত্তি হার দেখিয়েছে।

অন্যদিকে বেশ কিছু কোম্পানির পারফরম্যান্স অত্যন্ত দুর্বল। প্রগতি ইন্স্যুরেন্সে ১৯৯.৫০ কোটির মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৮.৭৬ কোটি (৩৪.৪৭%), গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সে ৪১১.০২ কোটির মধ্যে ৮১.৪৫ কোটি (১৯.৮২%), ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সে ৭১.৯৬ কোটির মধ্যে ২২.৩৭ কোটি (৩১.০৮%), মেঘনা ইন্স্যুরেন্সে ১৬.৬৫ কোটির মধ্যে মাত্র ৩.৯৫ কোটি (২৩.৭৩%), নর্দার্ন ইন্স্যুরেন্সে ৭৪.১৯ কোটির মধ্যে ৪.৯৬ কোটি (৬.৬৯%) এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্সে ৯৪.১৫ কোটির মধ্যে মাত্র ৬.০৯ কোটি টাকা (৬.৪৭%) নিষ্পত্তি হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে দাবি নিষ্পত্তির এই নিম্ন হার বীমা খাতের দুর্বলতা নির্দেশ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো দাবি পরিশোধ না হলে গ্রাহকদের আস্থা কমে যাবে এবং নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াকে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় দেশের বীমা খাত দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com