নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রিন্ট ৩৪৪ বার পঠিত
‘বীমা ব্যবসা নিবন্ধন নবায়ন ফি বিধিমালা, ২০১২’ সংশোধন করে ধাপে ধাপে ফি বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাতসংক্রান্ত বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরকারি ফি নিয়মিত একবারই নির্ধারণ করা হয়-কিন্তু ভবিষ্যৎ হিসাব ধরে বছরভিত্তিক হারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফি বাড়ানোর এই উদ্যোগ নজিরবিহীন এবং খাতের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে অসঙ্গত।
সম্প্রতি আইডিআরএ গ্রস প্রিমিয়ামের প্রতি হাজার টাকায় নবায়ন ফি কয়েকগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভার সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সাল থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য এই ফি ১ টাকা থেকে বাড়িয়ে আড়াই টাকা করা হচ্ছে। ২০২৯ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ফি হবে ৪ টাকা। আর ২০৩২ সাল ও পরবর্তী বছরগুলোতে প্রতি হাজার টাকায় ৫ টাকা দিতে হবে। সংশোধিত খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আইন মন্ত্রণালয় তা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়েছে। এখন শুধু প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা। গত ১৫ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সাঈদ কুতুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) পক্ষ থেকে দুজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের পক্ষ থেকে দুজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। তবে অংশীজনদের নিয়ে আইডিআরএ’ আয়োজিত সভায় বিআইএ প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ ফি বাড়ানোর এই প্রস্তাবের জোরালো বিরোধিতা করলেও সচিবালয়ের পর্যালোচনা সভায় মালিক পক্ষের কেউ না থাকায় জোরালো বিরোধিতা আসেনি।
এদিকে ২০৩০ সাল বা তার আগে/পরে বীমা খাতের ব্যবসায়িক অবস্থা পুনর্মূল্যায়ন ছাড়াই ফি বাড়ানোর এই দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অংশীজনরা। তাদের মতে, হঠাৎ বড় অঙ্কের বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত খাতের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে। বিশ্লেষকদের মতে, বীমা খাতের ভবিষ্যৎ আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন ছাড়া এত দীর্ঘমেয়াদি ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত যৌক্তিক নয়। এতে শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপর চাপ বাড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মনে করেন, “এটি শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপরই চাপ সৃষ্টি করবে।”
ফি বাড়ানোর পক্ষে আইডিআরএর যুক্তি-নতুন ভবন নির্মাণ, শাখা কার্যালয় স্থাপন, পেনশন- গ্র্যাচুইটি, জনবল বৃদ্ধি, বিনামূলে ইউএমপি বা আইআইএমএস সেবা প্রদান এবং বিসিআইআই, বিআইআইএম ও একচ্যুয়ারিয়াল সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন।
অন্যদিকে অংশীজনদের অভিযোগ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের এসব ব্যয় বীমা কোম্পানির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসির মতো অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর এ ধরনের নবায়ন ফি ধার্য করে না। আইডিআরএ আইন-২০১০ এ তহবিলের প্রথম উৎস হিসেবে সরকারি অনুদানের কথা থাকলেও, আইডিআরএ সেই পথে না গিয়ে সরাসরি কোম্পানিগুলোর ওপর আর্থিক বোঝা চাপাতে চাইছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
Posted ০৯:৩১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com