অনলাইন ডেস্ক
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৬ বার পঠিত
বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নে অর্থায়নের পথ খুঁজতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএসএনসিসি) সপ্তাহব্যাপী এ সভার কার্যক্রম শুরু হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, সরকারি নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
সভায় বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি, মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়নসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে ঋণের বোঝা, বিনিয়োগের চাহিদা, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নীতিগত অবস্থান এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা কীভাবে জোরদার করা যায়, তা এবারের সভায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা, আর্থিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো এবং দারিদ্র্য হ্রাসের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপযোগী অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলাও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব দেশের অনেকের জন্য ঋণ পরিশোধের চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীলতা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এবারের সভায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অর্থনৈতিক প্রভাব, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, সবুজ অর্থায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করলেও শ্রমবাজার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আয়বৈষম্যের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।
এ প্রেক্ষাপটে সরকারগুলোর নীতিগত প্রস্তুতি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং উন্নয়ন অর্থায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়গুলো নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
সবুজ অর্থায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য অর্থায়ন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হচ্ছে।
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। সাধারণত এ সভায় সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সংস্কার, দারিদ্র্য বিমোচন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতবিনিময়ের মাধ্যমে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্যও এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নীতিগত অবস্থান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ব্যাংককের এ সভায় আলোচনার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ, উন্নয়ন অর্থায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Posted ০৭:১৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com