রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ৭৫% ডিভিডেন্ড দিতে চায় আইসিবি

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫   প্রিন্ট   ২১৬ বার পঠিত

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ৭৫% ডিভিডেন্ড দিতে চায় আইসিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সবচেয়ে বেশি মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) চলতি অর্থবছরের মুনাফার কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ ইউনিট হোল্ডারদের মধ্যে ডিভিডেন্ড হিসেবে বিতরণের অনুমোদন চেয়েছে। একইসঙ্গে বাকি ২৫ শতাংশ প্রভিশনিংয়ের জন্য রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে কিছুটা হলেও বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ পান।

আইসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাজার পতনের কারণে অধিকাংশ মিউচুয়াল ফান্ড বাজারমূল্যের নিচে নেমে যাওয়ায় “আনরিয়ালাইজড লোকসান” দেখানো হয়েছে, যার কারণে ১০০ শতাংশ প্রভিশন রেখে অনেক ফান্ড ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা চায় প্রভিশনিংয়ের বিধানে সাময়িক শিথিলতা, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা অন্তত আংশিক মুনাফা পেতে পারেন।

এই প্রস্তাবনা ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এর আগে ১৭ মে বিএসইসির সঙ্গেও একই পরামর্শ দিয়েছে আইসিবি।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “মিউচুয়াল ফান্ড হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থে গঠিত। অথচ প্রভিশনিংয়ের চাপে মুনাফা থাকলেও অনেক ফান্ড ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শুধুই বিনিয়োগকারীরা।”

তিনি বলেন, “বর্তমান বাজার বাস্তবতায় কিছুটা ছাড় দিলে, ইউনিট হোল্ডারদের জন্য এটা বড় স্বস্তির বিষয় হতো।”

আইসিবির তথ্যমতে, ২০২৪ সালে পরিচালিত ৬২টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৫২টি লোকসান করেছে। এর মধ্যে ৪৯টি কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি, যদিও ৯টি ফান্ড লোকসানে থেকেও সীমিত পরিমাণে ডিভিডেন্ড দিয়েছে। শুধুমাত্র ৬টি ফান্ডই পোর্টফোলিওতে লাভ ধরে রাখতে পেরেছে।

আইসিবির ট্রাস্টি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, টানা ডিভিডেন্ড না পাওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা বেড়েছে। ফলে অনেকেই ইউনিট বিক্রি করে মূলধন তুলে নিচ্ছেন, যার ফলে বাজারে লিকুইডিটি সংকটও দিন দিন বাড়ছে।

আইসিবির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শরিকুল আনাম জানান, “বন্ড বা এফডিআরের চেয়ে কম রিটার্ন পাওয়ায় অনেকেই শেয়ারবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আগামী অর্থবছরেও যদি ডিভিডেন্ড না দেওয়া যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠবে।”

বর্তমানে ২০০১ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা অনুযায়ী, ফান্ডের বাজার মূল্য যদি ক্রয়মূল্যের নিচে নামে, তবে ডিভিডেন্ড ঘোষণার আগে সেই লোকসানের জন্য প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক। ২০২৩ সাল থেকে বিএসইসির মৌখিক নির্দেশনায় ১০০ শতাংশ প্রভিশনিং বাধ্যতামূলক হওয়ায় ডিভিডেন্ড প্রদানে বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিউচুয়াল ফান্ড সেক্টরে আস্থা ফেরাতে এবং বাজারে তরলতা বজায় রাখতে, এখনই প্রভিশনিং নীতিতে সময়োপযোগী ছাড় ও সংস্কার দরকার। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণই হতে পারে একমাত্র সমাধান।

Facebook Comments Box
×

Posted ০৭:৪৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com