Ad
x

রামগড়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের চাল বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ১৬ বার পঠিত

রামগড়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের চাল বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

খাগড়াছড়ির রামগড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি চাল বরাদ্দ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম এ করিমের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও এলাকাবাসী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য এক মেট্রিক টন করে মোট ২৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের নামে বরাদ্দপত্র ইস্যু না করে অনেক ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চাল বিতরণের পরিবর্তে বিভিন্ন অজুহাতে কাউকে ৭ হাজার, কাউকে ৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। ফলে প্রকৃত উপকারভোগী প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অনেকেই সরকারি এ বরাদ্দ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। রামগড় ইবতেদায়ী নূরানী কুরআন মাদ্রাসার সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “সরকারি বরাদ্দ সাধারণত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের নামে হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে ২৭টি প্রকল্প বিভিন্ন ব্যক্তির নামে দেওয়া হয়েছে। নানা খরচের কথা বলে কাউকে ৭ হাজার, কাউকে ৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আমি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হলেও এসব বিষয়ে কিছুই জানি না।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ধনঞ্জয় মেম্বার ও কর্ণ ত্রিপুরা জানান, এক টন চালের বিপরীতে তাঁদের ৭ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। একটি মাদ্রাসার কোষাধ্যক্ষ কামাল হুজুর বলেন, “আমি ৯ হাজার টাকা পেয়েছি। তবে চাল বরাদ্দ ও বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।”
ইসলামপুর রশিদিয়া মাদ্রাসার উপদেষ্টা মো. জামাল হোসেন বলেন, “এটি পুকুর চুরির মতো ঘটনা। কোনো নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা হয়নি। পুরো প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কিছুই জানতেন না।” স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চরম অভাব ছিল। প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে অন্যদের মাধ্যমে বরাদ্দ বাস্তবায়ন করায় সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সরকারি বরাদ্দ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে পিআইওর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম এ করিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Facebook Comments Box

Posted ০৫:৫৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com