নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট ১৪ বার পঠিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রোগী ও তার স্বজনেরা চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস ও মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তাহলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যতই করা হোক, চিকিৎসার জন্য (রোগীদের) বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভবন-২ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নতুন ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোনো সম্ভব হয়েছে। ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সময়ের প্রয়োজনে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হাসপাতালটি আজ আকার ও আয়তনে বড় রূপ ধারণ করেছে।
তিনি হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, হেলথ টেকনিশিয়ানসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক জটিলতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্ট্রোক, ইপিলেপসি বা খিঁচুনি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগের মতো সমস্যায় দেশে আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ৫০০ শয্যার আধুনিক ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে এ ধরনের রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে। আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত নতুন ভবনটি শুধু রোগী ভর্তির ধারণক্ষমতা বাড়াবে না, চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
দেশের সাধারণ মানুষ যেন স্বল্প খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা পান, সেই লক্ষ্যেই ‘নিউরোসায়েন্স-২’ ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, অতিরিক্ত বেড ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই ব্যবস্থা দেশের হাজারো রোগীর জন্য আশার আলো বয়ে আনবে।
প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকতাও জরুরি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রযুক্তি থাকলেই একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হয় না। এর সঙ্গে মানবিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই।
রোগীর প্রতি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিশীল আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা, তার মানসিক অবস্থা বোঝা এবং সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে, চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসার পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখার দায়িত্ব শুধু চিকিৎসকের নয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন-এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের পরিবর্তে চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন, কিংবা রোগী ও তার স্বজনেরা চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস ও মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তাহলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যতই করা হোক, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।
স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়া জরুরি
স্বাস্থ্যের অধিকার শুধু মৌলিক অধিকার নয়, এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতিরও চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও সবার জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়া জরুরি। উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যায় না।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও প্রান্তিক মানুষের কাছেও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যেন যে কোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়, সেজন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের মেয়াদেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অক্টোবরে চালু হবে পাঁচ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল
শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সুস্থ আগামী’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে।
একইভাবে শিশুস্বাস্থ্যের প্রতিও সরকার বিশেষভাবে নজর দিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর অংশ হিসেবে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর কাজ শুরু হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে এই পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে সরকার সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন, জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়ে বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে যে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য শুধু স্লোগান নয়।
তিনি বলেন, সরকার দেশে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেন মানুষ দেশের ভেতরেই সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পায়। তবে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে সরকার যত উদ্যোগই গ্রহণ করুক না কেন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং সর্বোপরি স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার ওপরই স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার সাফল্য নির্ভর করবে।
অর্থাভাবে কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না
সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না এবং অর্থাভাবে কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না-এমন প্রত্যয়ের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
Posted ০৩:০৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com