নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট ৬ বার পঠিত
দেশের ২০টি ব্যাংকে মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামী ধারার সাতটি ব্যাংকেই রয়েছে সবচেয়ে বড় ঘাটতি। এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা যা মোট ঘাটতির প্রায় ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ।
তথ্য অনুযায়ী, মূলধন ঘাটতিতে থাকা ২০টি ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের ঘাটতি প্রায় ৩৭ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। বেসরকারি সাত ব্যাংকের ঘাটতি প্রায় ৩৩ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি প্রায় ৩০ হাজার ৭৯১ কোটি এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘাটতি প্রায় ২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটির ঘাটতি প্রায় ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। এরপর অগ্রণী ব্যাংকের প্রায় ৬ হাজার ৫৩৪ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ৪ হাজার ১৮৯ কোটি এবং বেসিক ব্যাংকের প্রায় ৪ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে।
ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতিতে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি প্রায় ৬৪ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৩০ হাজার ৫৩ কোটি এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রায় ২৯ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি প্রায় ২৫ হাজার ৯১৪ কোটি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৬৮৬ কোটি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রায় ৬ হাজার কোটি এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যেও কয়েকটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি উল্লেখযোগ্য। এসব ব্যাংকের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। এরপর এবি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ও সিটিজেনস ব্যাংক রয়েছে।
মূলধন ঘাটতির এই চিত্র দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বল আর্থিক ভিত্তির বিষয়টি সামনে এনেছে। পর্যাপ্ত মূলধন না থাকলে ব্যাংকের লোকসান সামাল দেওয়ার সক্ষমতা কমে যায় এবং আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঝুঁকি মোকাবিলায় নির্ধারিত মূলধন সংরক্ষণকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মূলধন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোর বড় একটি অংশের আর্থিক দুর্বলতার পেছনে পুনঃতফসিলকরণ নীতি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং প্রকৃত আর্থিক অবস্থার তুলনায় দুর্বল হিসাব ব্যবস্থাপনা ভূমিকা রেখেছে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়ায় মূলধনের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতের সংকটের অন্যতম বড় দিক হয়ে উঠেছে। একাধিক ব্যাংকের একীভূতকরণ, পুনর্গঠন ও প্রশাসক নিয়োগের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মূলধন ঘাটতি পূরণ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মূলধন জোগান দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খেলাপি ঋণ আদায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ঋণ বিতরণে সুশাসন এবং ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন ও প্রয়োজন অনুযায়ী একীভূত করার কার্যকর উদ্যোগও প্রয়োজন।
মূলধন ঘাটতির পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাতও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ঘাটতি পূরণে কার্যকর সংস্কার ও মূলধন পুনর্গঠন জরুরি। অন্যথায় ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
মূলত ২০টি ব্যাংকের প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি দেশের আর্থিক খাতের জন্য বড় সতর্কসংকেত। বিশেষ করে কয়েকটি ইসলামী ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বিপুল ঘাটতি দ্রুত সমাধান করা না গেলে পুরো ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
Posted ০৭:৩৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com