|

Advertisement
×

রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬   প্রিন্ট   ২৮ বার পঠিত

রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার

ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নির্দিষ্ট শর্তে আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। বারভিডার নেতারা বলেন, ইভি আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রাখার পরিবর্তে গাড়ির বয়স, ব্যাটারির সক্ষমতা, কারিগরি মান ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রিত আমদানি ব্যবস্থা চালু করা হলে পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সভাপতি আবদুল হক, সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী ও হাবিবুল্লাহ ডন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল হক চৌধুরী, বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মহিবুল ইসলাম, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান, ফরিদসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বারভিডা বলেছে, মোটরগাড়ি শিল্পে নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যবসায়ীদেরও বিভিন্ন সময়ে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সার্ভিসিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয়েছে। হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও শুরুতে নানা ধরনের আপত্তি ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও পরে নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির সুযোগ তৈরি হয়।

সংগঠনটির দাবি, ২০০৯ সালে শুল্ক সুবিধাসহ নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি। নতুন প্রযুক্তি ও ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন আশঙ্কার কারণে তখন এ ধরনের গাড়ি আমদানি বন্ধ রাখা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও বিশ্ববাজারের তথ্য-উপাত্ত সরকারের কাছে তুলে ধরার পর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।

বারভিডার মতে, একই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভির ক্ষেত্রেও সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত আমদানি কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। এতে তুলনামূলক কম দামে পরিবেশবান্ধব নতুন প্রযুক্তির গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতারা।

বিভিন্ন দেশে শর্তসাপেক্ষে আমদানি:
সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১০ বছর বয়সী ইভি আমদানি করা যায়। জর্জিয়ায় ছয় বছর, কেনিয়ায় আট বছর এবং সৌদি আরবে পাঁচ বছর বয়সী ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া পাকিস্তানে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর এবং শ্রীলঙ্কায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পাঁচ বছর বয়সী ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে বলে জানায় বারভিডা। নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডেও নির্দিষ্ট শর্তে ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।

বারভিডার ভাষ্য, এসব দেশের নীতিতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে গাড়ির বয়স, ব্যাটারির অবস্থা, নিরাপত্তা ও কারিগরি মানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব।

পাঁচ বছর বয়সী ইভি আমদানির প্রস্তাব:
ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির জন্য আট দফা প্রস্তাব দিয়েছে বারভিডা। সংগঠনটির প্রধান প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বয়সী ইভি আমদানির অনুমতি এবং আমদানিকৃত গাড়ির ব্যাটারির ন্যূনতম সক্ষমতা ৭০ শতাংশ নির্ধারণ।

আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে গাড়ির কারিগরি পরীক্ষা ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, গুরুতর দুর্ঘটনা কিংবা কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

ইভি ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ অপসারণের জন্য কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা, চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং, ব্যাটারি পরীক্ষা ও পুনর্ব্যবহার খাতে বিনিয়োগে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং ইভির বিদ্যমান শুল্ক-কর কাঠামো সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পুনর্র্নিধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বারভিডা।

এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে সংযোজিত বা উৎপাদিত এবং আমদানি করা নতুন ইভির ব্যাটারির আয়ুষ্কাল সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।

নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত আমদানি:
সম্প্রতি প্রকাশিত আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বারভিডা। সংগঠনটির মতে, ব্যবহৃত ইভির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে একদিকে যেমন ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে ইভি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে সরকারও নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

বারভিডার নেতারা বলেন, বাংলাদেশে এখন পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয়, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান এবং চার্জিং অবকাঠামো—সবকিছুকে বিবেচনায় রেখে ইভি নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, ইভি খাতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করা হলে দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি সার্ভিসিং, ব্যাটারি পরীক্ষা, পুনর্ব্যবহার এবং চার্জিং অবকাঠামোতেও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

Facebook Comments Box

Posted ০৬:১৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com