নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৪১ বার পঠিত
দেশের ব্যাংকিং খাতে উপশাখার মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও ঋণ ও অগ্রিম বিতরণ কমেছে। চলতি বছরের ৩১ মার্চ থেকে ৩০ জুন—তিন মাসে উপশাখায় সংগৃহীত আমানত বেড়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে উপশাখার মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ ও অগ্রিম কমেছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের ‘সিডিউলড ব্যাংকস সাব-ব্রাঞ্চ স্ট্যাটিসটিকস (এপ্রিল-জুন, ২০২৬)’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন ২০২৬ শেষে দেশে ব্যাংকের মোট উপশাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩টি। মার্চে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৯৯২টি। তিন মাসে নতুন করে ৩০টি গ্রামীণ ও ১৯টি শহুরে উপশাখা চালু হয়েছে। বিপরীতে আটটি উপশাখা বন্ধ অথবা অন্য শাখা বা উপশাখার সঙ্গে একীভূত হয়েছে।
জুন শেষে মোট উপশাখার ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় এবং ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ শহরাঞ্চলে রয়েছে। মার্চে গ্রামীণ উপশাখার অংশ ছিল ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
উপশাখায় আমানত ৮৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে:
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ শেষে উপশাখাগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৭৯ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
একই সময়ে পুরো ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের তুলনায় উপশাখায় আমানত বৃদ্ধির হার বেশি।
মোট ব্যাংকিং খাতের আমানতের মধ্যে উপশাখার আমানতের অংশও সামান্য বেড়েছে। মার্চে এ অংশ ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে।
উপশাখায় সংগৃহীত আমানতের মধ্যে গ্রামীণ এলাকার অংশ ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। তবে নারীদের হিসাবে থাকা আমানতের অংশ সামান্য কমেছে। মার্চে এ অংশ ছিল ২৬ দশমিক ২ শতাংশ, জুনে তা নেমে এসেছে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশে।
অন্যদিকে, উপশাখায় আমানত হিসাবের সংখ্যা ৮৪ লাখ ৭৩ হাজার ৬৯৭টি থেকে বেড়ে ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৮টিতে দাঁড়িয়েছে। তিন মাসে হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। মোট আমানত হিসাবের মধ্যে নারীদের হিসাবের অংশও ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।
ঋণ বিতরণ কমেছে:
আমানত বাড়লেও উপশাখার মাধ্যমে ঋণ ও অগ্রিম বিতরণে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। মার্চ শেষে উপশাখার মাধ্যমে বিতরণ করা মোট ঋণ ও অগ্রিমের স্থিতি ছিল ২২ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ কমেছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা বা ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে পুরো ব্যাংকিং খাতে ঋণ ও অগ্রিম বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের তুলনায় উপশাখায় ঋণ বিতরণে বড় ধরনের সংকোচন দেখা গেছে।
জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ও অগ্রিমের মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ এসেছে উপশাখা থেকে। মার্চে এ হার ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ।
তবে উপশাখার ঋণের ক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকার অংশ বেড়েছে। মার্চে মোট উপশাখা ঋণের ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় বিতরণ করা হলেও জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
নারীদের ঋণ পাওয়ার অংশও কিছুটা বেড়েছে। মার্চে মোট উপশাখা ঋণের ১৪ শতাংশ নারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। জুনে এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশে।
তবে ঋণ হিসাবের সংখ্যা কমেছে। মার্চে উপশাখার ঋণ হিসাব ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫১২টি, জুনে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ১০টি। অর্থাৎ হিসাবের সংখ্যা কমেছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে নারীদের ঋণ হিসাবের অংশ ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
ঢাকায় সবচেয়ে বেশি উপশাখা:
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন ২০২৬ শেষে দেশের জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপশাখা রয়েছে ঢাকায়। এ জেলায় ব্যাংকের উপশাখার সংখ্যা ১ হাজার ৭টি।
এর পর রয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় ৪৭০টি, কুমিল্লায় ২১৮টি, নারায়ণগঞ্জে ১৭০টি এবং গাজীপুরে ১৬৮টি উপশাখা।
ব্যাংকভিত্তিক হিসাবেও কয়েকটি ব্যাংক উপশাখা বিস্তারে এগিয়ে রয়েছে। জুন শেষে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২২৪টি উপশাখা পরিচালনা করছে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। এরপর রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি ৬৮৮টি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি ৩৫০টি, পূবালী ব্যাংক পিএলসি ২৮১টি এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ২৭১টি।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বাড়ছে উপশাখার ভূমিকা:
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ‘ব্যাংকিং বুথ’ পরিচালনার বিষয়ে নীতিমালা জারি করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এসব ব্যাংকিং বুথকে ‘উপশাখা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে উপশাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার শর্ত ও কাঠামো নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়।
এরপর থেকে উপশাখাগুলোর আমানত, ঋণ, হিসাবের সংখ্যা এবং অবস্থানভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে উপশাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আমানত হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নারীদের হিসাবের অংশ বাড়ার প্রবণতা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে উপশাখায় আমানত বৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ার বিষয়টি ব্যাংকগুলোর ঋণ কার্যক্রম ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
Posted ০৭:৩৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com