বিবিএনিউজ.নেট
শনিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২০ প্রিন্ট ৪৬১ বার পঠিত
অনেকে কথায় বলে থাকেন- ‘সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ।’ কথাটি নেতিবাচক হিসেবেই সাধারণত বলা হয়। এটি একশ ভাগ খাটে দেশের পুঁজিবাজারে ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটের বেলায়। এখানে যেনো অনিয়মই নিয়ম। বছরের পর বছর এখানে কোনো পরিবর্তন নেই।
দেশের পুঁজিবাজার পরিচালনার বিধিবিধান প্রনয়নে সচারচর প্রতিবেশি দেশগুলোর আইন কানুন অনুসরনের একটি চল আছে। স্টক এক্সচেঞ্জ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এর বাইরে চীন-ব্রিটেনসহ বড় বড় স্টক এক্সচেঞ্জের আইন কানুনও অনেক সময় আদর্শ হিসাবে মেনে থাকে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও এই বিষয়গুলো জানা কিন্তু তাদের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে- সেটি হচ্ছে বাংলাদেশের ওটিসি মার্কেটের মতো অনিয়মকারীদের অভয়ারণ্য বিশ্বের আর কোন্ মার্কেটে রয়েছে? এদেশে এটি কোন মার্কেটের আদলে বানানো হয়েছে? যারা এই মার্কেট সৃষ্টি করেছেন, কার স্বার্থ সংরক্ষণ করতে চেয়েছেন?
ওটিসির জন্ম সূত্র বলছে, এই মার্কেটে শুধুমাত্র অনিয়মকারীরা অবস্থান করবে। তাদের কোনো বিচার হবে না। তাদের শেয়ার বিক্রি করতে হলে বিনিয়োগকারীদের ঘাম ঝড়াতে হবে। তারপরও ব্যাটে বলে না মিললে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে।
বিনিয়োগকারীরা এক জনমে যাতে এখান থেকে বের হতে না পারেন এবং চোর বাটপার মালিকেরা যাতে এখানে কোম্পানি ফেলে দিয়েই নির্বিঘ্নে বিদেশে পালাতে পারেন কিংবা দেশে পালিয়ে বেড়াতে পারেন সে চিন্তা মাথায় নিয়েই ওটিসির আইন কানুন প্রণয়ন করা হয়েছে। এখানে যুগের পর যুগ এজিএম না করলেও কেউ জানতে চাইবে না, বছরের পর বছর হিসাব নিকাশ না করলেও কেউ কোনো প্রশ্ন করবে না। কোম্পানি বন্ধ করে দিয়ে কিংবা ফ্যাক্টরি বিক্রি করে দিয়ে উধাও হয়ে গেলেও এই মার্কেটের কেউ কোনো দিনও খোঁজ নেবে না। ওটিসি মার্কেটের বহু কোম্পানির কোনো ঠিকানা নেই, ফ্যাক্টরির কোনো অস্তিত্ব নেই, পরিচালকদের কোনো হদিস নেই। কিছু কিছু কোম্পানির হদিস থাকলেও বছরের পর বছর সেখানে তালা ঝুলছে। বহু বিনিয়োগকারী এই মার্কেটেই শেয়ার ফেলে রেখে মারা গেছেন। তাদের উত্তরাধিকাররাও আর এখান থেকে বের হতে পারেননি।
এসব কারণে ওটিসি যেনো পুঁজিবাজারের টিউমারে পরিণত হয়েছে। এটি কেটে ফেলা ছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। তাই নীতি নির্ধারকদের গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি ভাবা দরকার।
Posted ০৩:৪৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২০
bankbimaarthonity.com | Sajeed
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com