বুধবার ৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দুই ফান্ডের ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত ইউনিটহোল্ডরা

রবিবার, ০৪ জুলাই ২০২১   প্রিন্ট   ৪৮৯ বার পঠিত

অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দুই ফান্ডের ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত ইউনিটহোল্ডরা

সংশ্লিষ্ট অ্যাসেট মেনেজম্যান্ট কোম্পানির অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দুই ফান্ডের ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে মনে করছেন ফান্ড দুটির ইউনিটহোল্ডরা। ফান্ড দুটি হলো- ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও গ্রীন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড। ৩০ জুন, ২০২০ অর্থবছরে ইউনিট হোল্ডারদের ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত করায় পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত দুই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, অ্যাসেট মেনেজম্যান্ট কোম্পানিগুলো নিজেরা বিলাস বহুল ও আরাম আয়েশে জীবন-যাপন করলেও লোকসানের অজুহাতে ইউনিটহোল্ডরদেকে ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত করার জন্য লোকসানের অজুহাত দেখাচ্ছে। অ্যাসেট মেনেজম্যান্ট কোম্পানিগুলো বছরশেষে যে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে, তা কতটা স্বচ্ছ্ব তা খতিয়ে দেখা উচিত।

বিনিয়োগকারীরা ফান্ড দুটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট মেনেজম্যান্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনুনাগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কশিনেশনের (বিএসইসি) কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যাসেট মেনেজম্যান্ট কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে ভালো ব্যবসা করছে। আইপিও শেয়ারেও কোম্পানিগুলো রমরমা ব্যবসা করছে। তারপরও ইউনিট হোল্ডারদের কেন ডিভিডেন্ড দিতে পারে না, তা কোনভাবেই বোধগম্য নয়।

হেলাল হোসেন নামে এক প্রবীণ বিনিয়োগকারী বলেন, ‘পুঁজিবাজারে যতগুলো অ্যাসেট মেনেজম্যান্ট কোম্পানি রয়েছে, তার মধ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছে এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট মেনেজম্যান্ট কোম্পানি। বিএসইসসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে কোম্পানিটির নেতৃত্বে থাকা এক ব্যক্তি বিভিন্ন অনিয়ম করেও বার বার পার পেযে যাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট মেনেজম্যান্ট কোম্পানিটিকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পুঁজিবাজার থেকে বহিস্কার করা উচিত।’

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও গ্রীন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৩০ জুন, ২০২০ অর্থবছরের জন্য ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য অর্থবছরটি ছিল পুঁজিবাজারের জন্য সত্যি খারাপ বছর। যে কারণে ফান্ড দুটি লোকসান করেছে। তবে সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে (জুলাই’২০-জুন’২১) মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ভালো ব্যবসা করেছে। কিছুদিন পরই মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ইউনিট হোল্ডারদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে। অন্যান্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মতো এই ফান্ড দুটিও এবছর হয়তো বিনিয়োগকারীদের ভালো ডিভিডেন্ড দিতে পারবে।

উল্লেখ্য, এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির আওতায় রয়েছে ৬টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। ফান্ডগুলো হলো ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ও এনসিসিবিএল ফান্ড ওয়ান।

এই ৬টি ফান্ডের তহবিলের পরিমাণ ৮৭০ কোটি টাকা এবং ফান্ডগুলোর বাজার মুল্যে নেট অ্যাসেট ভ্যালু এখন প্রায় ৯৮০ কোটি টাকা। ২০০০ সাল থেকে এলআর গ্লোবাল দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে আসছে। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং এর বিনিয়োগকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।

সেই এলআর গ্লোবাল অ-তালিকাভুক্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজের শেয়ার ৫০ কোটি টাকায় কেনার ঘোষণা দিলে অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্য আলোচনায় আসে। দুদক, বিএসইসি ও আইনজ্ঞরা বলছেন, এই শেয়ার কেনাবেচায় বেশ কয়েকটি অনিয়ম খুঁজে পায়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিডিনিউজ একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠান। যার কর্মীদের বেতন–ভাতাও নিয়মিত বকেয়া থাকছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ১০০ টাকা মূল্যের শেয়ার ১২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রির বিষয়টি অনিয়মের পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয়। তাছাড়া এলআর গ্লোবালের বিদেশি অংশীদারেরাও এত টাকায় অনলাইন ওয়েব পোর্টালের শেয়ার কেনার বিষয়টি অবগত নন। কোম্পানিটির ট্রাস্টি বোর্ডও বিষয়টি অনুমোদন করেনি। বিডিনিউজে বিনিয়োগের বিষয়ে এসইসির কাছ থেকেও অনুমতি নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

প্রসঙ্গত, এলআর গ্লোবালের ৫০ কোটি টাকা নেয়ায় গত বছরের ৩০ জুলাই বিডিনিউজ সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এর আগে ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর জ্ঞাত আয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক খালিদীর বিষয়ে অনুসন্ধান চালায়। ১১ নভেম্বর দুদকে হাজির হয়ে খালিদী দুর্নীতির বিষয়ে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি উচ্চ আদালত থেকে স্থায়ী জামিন নেন।

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, তৌফিক ইমরোজ খালিদী চারটি ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে ৪২ কোটি টাকা জমা রেখেছেন, যার বৈধ কোনো উৎস দুদক পায়নি। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এলআর গ্লোবাল বিডিনিউজে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তাৎক্ষণিকভাবে ওই ‘বিনিয়োগ ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত’ থাকার নির্দেশ দেয়।

দুদকের মামলায় এলআর গ্লোবালের বিনিয়োগকৃত টাকা খালিদী ‘অবৈধ প্রক্রিয়ায়’ অর্জন করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। এরপর ‘অবরুদ্ধ’ করা হয় তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বিডিনিউজে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটির ইউনিট হোল্ডারদের সমস্যায় ফেলেছে। ১০০ টাকার ফেস ভ্যালুর শেয়ার ক্রয় করেছিল ১২,৫০০ টাকায়। ঘটনা ঘটেছিল মূলত তিন-চার বছর আগে। তখন বর্তমান কমিশন ছিল না। তবে বর্তমান কমিশন বিষয়টি জানার পর সমস্যা সমাধানের পথে এগুতে থাকে। বিনিয়োগ করা অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে আনারও নির্দেশ দেয় অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের কমিশন।

প্রসঙ্গত আরও উল্লেখ্য যে, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৭২ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ডের ৭০ দশমিক ১০ শতাংশ ইউনিটহোল্ডারদের লিখিত মতামত ও ফান্ড দুটির ট্রাস্টি বিজিআইসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সম্পদ ব্যবস্থাপক এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের পরিবর্তে নতুন সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের নিয়োগের বিষয়টি বিএসইসির ৭১২তম কমিশন সভায় অনুমোদন করা হয়।

নতুন সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড দেশের একটি সুনাম অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান। এর অধিনে ডিবিএইচ ফার্স্ট এবং গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড দুটি স্থানান্তরিত হলে ইউনিটহোল্ডাররা ভালো ডিভিডেন্ড পাবে–এমনটাই আশা করছে ফান্ড দুটির ইউনিটহোল্ডাররা।

Facebook Comments Box

Posted ০৪:৫৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ জুলাই ২০২১

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com