নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫ প্রিন্ট ৩৩৭ বার পঠিত
সাবেক দুই কর্মকর্তাকে আটকে রেখে লোহার রড দিয়ে মারধর, হত্যা চেষ্টা ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মো. মোকাদ্দেস হোসেন, ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামরুল হাসান, সাবেক ও বর্তমান একাধিক পরিচালকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
নির্যাতিত সাবেক কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন আকন্দ বাদী হয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় এ মামলা দায়ের করেন। বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১৪৩, ৩৪২, ৩৪৭, ৩৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী শাহাদাৎ হোসেন আকন্দ প্রায় ১৩ বছর ফারইস্ট ইসলামী লাইফে চাকরি করার পর এক বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে বর্তমানে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে কর্মরত। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফারইস্ট টাওয়ারের হিসাব বিভাগ থেকে বকেয়া বেতন ও ছুটির নগদায়ন বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে ডেকে পাঠানো হয়।
তিনি সহকর্মী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সেখানে গেলে কোম্পানির কয়েকজন কর্মকর্তা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মো. মোকাদ্দেস হোসেনের নির্দেশে কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদেরকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন। পরে দুজনকে জোর করে ভবনের ১৮ তলায় একটি কক্ষে নিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা আটক রেখে লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর দাবি, তার কাছ থেকে একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন, নগদ ৩০ হাজার টাকা, একটি স্বর্ণের আংটি ও অফিসের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া, পিস্তল ঠেকিয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা ও ১০ লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ঘটনার সময় শাহাদাৎ হোসেন তার চাচা রুহুল আমিন আকন্দকে ফোনে বিষয়টি জানান। পরে শাহবাগ থানার এসআই ফয়সালের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে ও তাদের মোবাইল ফোন ফেরত দেয়। আহত অবস্থায় শাহাদাৎ হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন, ১. মো. আজগর আলী- ভিপি, আইন ও রিয়েল এস্টেট বিভাগ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনসুরেন্স লিমিটেড ২. মো. ফখরুল ইসলাম-চেয়ারম্যান, ৩. ডা. মো. মোকাদ্দেস হোসেন- ভাইস চেয়ারম্যান ৪. মো. মোবারক হোসেন -স্বতন্ত্র পরিচালক ৫. মো. হেলাল মিয়া ৬. মো. মোশাররফ হোসেন পুস্তি ৭. কামরুল হাসান – ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ৮. মো. শহিদুল ইসলাম- অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ৯. মো. আব্দুর রহিম ভুইয়া -সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) ১০. মো. মোজাম্মেল হোসেন-ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট ১১. এ. কে. এম. শহিদুল হক -এক্সিকিউটিভ অফিসার ও পিএস টু সিইও ১২. মো. এ এস এম শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া (রুমন)- এভিপি ও পিএস টু চেয়ারম্যান ১৩. মো. হামিদুর রহমান আজাদ- ইভিপি (উন্নয়ন বিভাগ) ১৪. মো. মোস্তফা জামান হামিদি – ইভিপি (উন্নয়ন বিভাগ) ১৫. কে. এম. সামছুদ্দিন- সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিএফও ১৬. মো. জসিম উদ্দিন – ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট, আইন বিভাগ ১৭. মো. ইউসুফ নবী- রিসিপশনিস্ট ১৮. মো. সাইদুর রহমান – নিরাপত্তা প্রহরী (গ্রাউন্ড ফ্লোর) ১৯. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক- সিকিউরিটি ইনচার্জ।
অভিযোগ তদন্তে ইতিমধ্যে শাহবাগ থানার উপ পরিদর্শক হাসানুজ্জামানকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
Posted ০৯:৩০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com