নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট ৩২৬ বার পঠিত
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সাবেক চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং ও বাজার কারসাজির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
মোশাররফ হোসেন দায়িত্বপালনকালে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ও ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে ঘিরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত গোপন তথ্য শেয়ার কেনাবেচায় ব্যবহার করা হয়েছিল কি না তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে।
একই সঙ্গে ট্রাস্টি-নিয়ন্ত্রিত প্রভিডেন্ট ফান্ড বা অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল থেকে বিশেষ সুবিধাজনক তথ্যের ভিত্তিতে লেনদেন করা হয়েছিল কি না, তাও যাচাই করা হবে। বিএসইসির উপপরিচালক মওদুদ মোমেন, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান রনি এবং সহকারী পরিচালক নাভিদ হাসান খানকে এ তদন্তের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছে।
বিএসইসির নির্দেশে আরেকটি পৃথক তদন্ত চলছে, যেখানে অভিযোগ রয়েছে যে মোশাররফ এবং তার স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া দুটো কোম্পানি খুলে তাদের সন্দেহজনক প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য শেয়ারবাজারে ৩৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
কমিশন জানিয়েছে, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, আইডিআরএতে দায়িত্ব পালনকালে মোশাররফ দুটি কোম্পানি লাভস অ্যান্ড লাইভ অর্গানিক লিমিটেড এবং গুলশান ভ্যালি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ গঠন করেন। তিনি দুটিরই ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তার স্ত্রী ছিলেন পরিচালক। এসব কোম্পানির নামে চারটি আলাদা তহবিল তৈরি করা হয় এবং চারটি বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।
আইডিআরএতে যোগ দেওয়ার পর মোশাররফ এই চার তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হন এবং উল্লিখিত পাঁচ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে মোট ৩২ দশমিক ৯১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। কাগজে-কলমে থাকা দুই কোম্পানির প্রভিডেন্ট ফান্ডে যে অর্থ জমা ছিল, তার উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও এসব বিনিয়োগ আইডিআরএতে যোগদানের আগেই করা হয়েছিল বলে দাবি করেন মোশাররফ।
বিএসইসির মুখপাত্র ও পরিচালক আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কমিশন বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে এই তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে ১৮ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন মোশাররফ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুইটি মামলা করেছে।
২০২২ সালের ১৫ জুন বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আইডিআরএর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন ড. মোশাররফ। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত গুরুতর অসঙ্গতি শনাক্ত করে ২০২২ সালের ১৪ অক্টোবর প্রতিবেদন দুদকে পাঠায়।এর আগেও ২০২১ সালে ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তোলে। প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্ক সামনে আসে, যদিও মোশাররফ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেন।বিএফআইইউর প্রতিবেদনে তাঁর ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ৩০টি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন এবং প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের অর্থ উত্তোলন, নগদ লেনদেন ও ব্যক্তিগত এফডিআর করার মতো তথ্য উঠে আসে-যা ‘স্বাভাবিক নয়’ বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি।
২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি আইডিআরএর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর সরকার তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। তাঁর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করা হয়।
Posted ০৭:৩৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ ক্য
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ||||||
| ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৭ | ৮ | |
| ৯ | ১০ | ১১ | ১ | ১৩ | ৪ | ১৫ |
| ১৬ | ১ | ৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ |
| ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২ | ৯ |
| ৩০ | ৩১ | |||||
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com