অনলাইন ডেস্ক
সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ প্রিন্ট ৩৬৬ বার পঠিত
দেশের বীমা খাতের অন্যতম প্রধান অংশীজন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বিআইএ) কার্যত পাশ কাটিয়েই বীমা আইন, ২০১০-এর সংশোধন এবং ‘বীমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেয়া হলো কি না এমন প্রশ্ন এসেছে খাত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।
গত ১৯ জানুয়ারি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সম্মেলন কক্ষে একই দিনে এ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। একটি সভায় আইডিআরএ প্রস্তাবিত ‘বীমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া এবং অপরটিতে বীমা আইন, ২০১০-এর সংশোধিত খসড়া নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তবে বীমা মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিআইএ সভায় অংশগ্রহণের জন্য সময় চেয়ে অনুরোধ জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বীমা খাতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সভা আইডিআরএ’র সম্মেলন কক্ষে আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এসব সভায় সভাপতিত্ব করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বীমা ও পুঁজিবাজার অনুবিভাগ) মো. সাঈদ কুতুব। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় ‘বীমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া পর্যালোচনা করা হয়। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে আর্থিক সংকটে পড়া বীমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা, পলিসিহোল্ডার সুরক্ষা এবং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার কাঠামোর কথা বলা হয়েছে।
দুপুর ২টায় দ্বিতীয় সভায় বীমা আইন, ২০১০-এর সংশোধিতব্য খসড়া নিয়ে প্রথম ধাপের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন একই বিষয়ে দ্বিতীয় ধাপের সভাও আইডিআরএ’র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিআইএ’র পক্ষ থেকে পৃথক দুটি চিঠির মাধ্যমে এই দুই সভা আয়োজনের বিষয়ে সময় চাওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংগঠনটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর এমপি প্রার্থী হিসেবে ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন।
বিআইএ চিঠিতে জানায়, বীমা আইন সংশোধন ও রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-এই দুটি বিষয়ই বীমা খাতের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সভাপতির অনুপস্থিতিতে এ ধরনের সভা ফলপ্রসূ হবে না বলেও তারা মত দেয়। সে কারণে নির্বাচন শেষে সুবিধাজনক সময়ে সভা আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়।
তবে ওই অনুরোধ উপেক্ষা করেই নির্ধারিত তারিখে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিআইএ কার্যত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে-এমন অভিযোগ তুলছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বীমা খাতের একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করছেন, মালিকদের প্রধান সংগঠনকে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত না করে আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলে ভবিষ্যতে বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, বিআইএ যৌক্তিক কারণেই সময় চেয়েছিল। সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে সভা আয়োজন করা মানে খাতের সবচেয়ে বড় অংশীজনকে পাশ কাটিয়ে এগোনো।
যদিও সভাগুলোর লক্ষ্য বীমা খাতে শৃঙ্খলা ও গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করা বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে নির্বাচনকালীন বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের অনুপস্থিতিতে এমন উদ্যোগ কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক-সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বীমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মালিকপক্ষসহ সব অংশীজনের পূর্ণাঙ্গ মতামত গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিআইএ সূত্র জানিয়েছে, তারা এখনো আশা করছে-নির্বাচনের পর একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরামর্শভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে আইন ও অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। অন্যথায় খাতের ভেতরে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
Posted ০৮:১৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com