প্রত্যেক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১২০ দিনের মধ্যে এজিএম করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অধিকাংশ কোম্পানি তা করতে ব্যর্থ হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে গ্রীন ডেল্টা, সিটি জেনারেল, ক্রিস্টাল ও সেনা ইন্স্যুরেন্সÑএই চারটি কোম্পানি তিন মাসের মধ্যেই এজিএম সম্পন্ন করেছে। এজিএম-এ গ্রীন ডেল্টা ২৭%, সিটি জেনারেল ১০%, ক্রিস্টাল ১২% ও সেনা ইন্সুরেন্স ১৫% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে সিটি জেনারেল ইন্সুরেন্স-এর পক্ষ থেকে সিএফও শেখ আজিজুল হক এবং ক্রিস্টাল ইন্সুরেন্সের কোম্পানি সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান বলেন, ক্রেডিট রেটিং-এর অঅঅ অর্জন বা ধরা রাখা, শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা, সময়মতো লভ্যাংশ প্রদান, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সঠিক সময়ে কর প্রদান, এবং কোম্পানিকে বিভিন্ন সংস্থার এওয়ার্ড পয়েন্ট রেটিং এ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এজিএম সম্পন্ন করা হয়েছে।
গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স:
কোম্পানিগুলোর মধ্যে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্রস প্রিমিয়াম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪০ কোটি ৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১.৪৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে নেট প্রিমিয়াম দাঁড়িয়েছে ২২৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা ২৮.৬৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। অবলেখন মুনাফাও বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১১৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। অগ্নি, নৌ, মোটর ও বিবিধÑসব খাত থেকেই আয় এসেছে। পাশাপাশি কোম্পানিটি ৩৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।
শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০২৫ সালে ২৭ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগের দুই বছরের তুলনায় বেশি। একই সঙ্গে আর্নিং পার শেয়ার দাঁড়িয়েছে ৫.৪৪ টাকা এবং নেট আসেট ভ্যালু ৭০.৫৩ টাকা।
প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো শ্রমিক কল্যাণে ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডে ৫ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি অর্থ প্রদান করেছে। অন্যদিকে, ল্যান্ড ও প্রোপার্টি খাতে বিনিয়োগ কমে দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় কম। এর কারণ হিসেবে আফতাব নগরের জমি বিক্রির কথা উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট অর্থের প্রতিফলন আর্থিক প্রতিবেদনে নেই।
সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স:
২০২৫ সালে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স আর্থিক সূচকে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১২.১৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা (১০.৫৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি)।
গ্রস প্রিমিয়াম বেড়ে হয়েছে ৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং নেট প্রিমিয়াম দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা যথাক্রমে ২.৩৮ ও ৪.০৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অবলেখন মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায়। অগ্নি ও বিবিধ বীমা খাতে লোকসান হলেও নৌ বীমা থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর মধ্যে অগ্নি বীমায় ৬ কোটি ১৪ লাখ, নৌ বীমায় ১ কোটি ৮৩ লাখ, মোটর বীমায় ২৬ লাখ এবং বিবিধ খাতে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি আর্নিং পার শেয়ার দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা এবং নেট আসেট ভ্যালু ২৩ টাকা ২৪ পয়সা।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৮ কোটি ১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১১.৮৪ শতাংশ বেশি।
ক্রিস্টাল ইন্সুরেন্স:
২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির আয় ও ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আলোচ্য বছরে গ্রস প্রিমিয়াম দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১১ কোটি ১ লাখ টাকা বেশি (বৃদ্ধি ১৩.৫৪%)। নেট প্রিমিয়াম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা (২৫.৪৪% প্রবৃদ্ধি)।
অবলেখন মুনাফা সামান্য কমে ১৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকায় দাঁড়ালেও, বিভিন্ন খাতÑঅগ্নি, নৌ, মোটর ও বিবিধ বীমাÑথেকে আয় অব্যাহত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি পরিশোধে গুরুত্ব দিয়ে ২৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭.৩১% বেশি। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০২৫ সালে ১২% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। আর্নিং পার শেয়ার বেড়ে হয়েছে ৩ টাকা ৩৪ পয়সা এবং নেট অ্যাসেট ভ্যালু পার শেয়ার দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৬৫ পয়সা।
মোট বিনিয়োগ বেড়ে হয়েছে ১৪৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২২২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। পাশাপাশি শ্রমিক কল্যাণে ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডে ৮৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯৭৬ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
সেনা ইন্সুরেন্স:
২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মোট সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১০.৫৩% বেশি। কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়ে ২০ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় পৌঁছেছে (২০.৩৩% প্রবৃদ্ধি)।
গ্রস প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ১৫০ কোটি ২৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে (৪৭.৪৭% বৃদ্ধি) এবং নেট প্রিমিয়াম ৫০ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় পৌঁছেছে, যা ৩৬.৪৫% প্রবৃদ্ধি। অবলেখন মুনাফা সামান্য বেড়ে ১১ কোটি ৮ লাখ টাকা হয়েছে, যেখানে নৌ, মোটর ও বিবিধ বীমা খাত থেকে ইতিবাচক আয় এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটি ১৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা দাবি পরিশোধ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০২.০৮% বেশি। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০২৫ সালে ১৫% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। আর্নিং পার শেয়ার বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ১৭ পয়সা এবং নেট অ্যাসেট ভ্যালু পার শেয়ার দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৫৮ পয়সা।
এছাড়া মোট বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা ১৬.৩৪% প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
৪টি ইন্সুরেন্স কোম্পানির ছকের মাধ্যমে একটি তুলনামূলক চিএ তুলে ধরা হলো: