নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ প্রিন্ট ১১ বার পঠিত
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা ডা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে অত্যন্ত আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেকোনও মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এটি কোনও সংঘাত বা চ্যালেঞ্জ বোঝাতে নয়, বরং সরকারের দৃঢ়তা বোঝাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা নিয়ে তিনি নিজেও কাজ করছেন এবং জয়েন্ট রিভার কমিশনের উপদেষ্টা হিসেবে বিষয়টি কাছ থেকে দেখছেন। চীনের প্রাথমিক প্রস্তাবে মূলত নদী শাসন, ড্রেজিং, নদী গভীর করা, পাড় রক্ষা এবং নদীকে একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলে আনার বিষয় ছিল। তিস্তা নদী কোথাও কোথাও আট কিলোমিটার পর্যন্ত চওড়া হয়ে যায়। ফলে ভাঙন ও ভূমি হারানোর বড় সংকট তৈরি হয়।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার মনে করছে, শুধু নদী শাসন নয়, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষার অতিরিক্ত পানি ব্যবস্থাপনাকেও পরিকল্পনায় আনতে হবে। উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে। তাই বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে কৃষি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনাও বিবেচনায় আছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি এমন আশঙ্কা দেখছেন না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ অনুযায়ী বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে অন্য দেশের নিরাপত্তা সংবেদনশীলতা থাকলে সেটিও বাংলাদেশ বিবেচনায় রাখবে। একইভাবে অন্য দেশগুলোকেও বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় রাখতে হবে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, চীনের নদী ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো খাতে বড় অভিজ্ঞতা ও অর্থায়নের সক্ষমতা আছে। তবে সরকার এখনও বলেনি যে চীনের অর্থায়নেই প্রকল্প হবে। আপাতত টেকনিক্যাল ও ফিজিবিলিটি বিষয়ে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আগে পালিয়ে যাওয়া সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশের স্বার্থ বিকিয়ে সম্পর্ক তৈরির অভিযোগ ছিল। বর্তমান সরকার পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতসহ সব দেশের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি ছেড়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ তিস্তার ন্যায্য হিস্যা চায়, গঙ্গা বা পদ্মার ন্যায্য হিস্যাও চায়।
তিনি বলেন, গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আগের চুক্তিতে বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে পানি পায়নি। তাই নতুনভাবে চুক্তির প্রয়োজন আছে। শুধু গঙ্গা নয়, অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির হিস্যার প্রশ্নেও বাংলাদেশ কাজ করবে।
Posted ০৩:৫৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com