শনিবার ২৫ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চা শ্রমিকের কাজ ছেড়ে সফল কৃষক কুমার দুধবংশী

বিবিএনিউজ.নেট   |   মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   587 বার পঠিত

চা শ্রমিকের কাজ ছেড়ে সফল কৃষক কুমার দুধবংশী

এক সময় খাইছড়া চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন তিনি। কৃষিতে এসে স্বপ্ন আর সম্ভবনার সুফলটুকু নিজ চোখে দেখে কৃষিকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। ছেড়েছেন চা বাগানের শ্রমিকের কাজ। তারপর পেছনে ফিরে আর তাকাতে হয়নি তাকে।

খাইছড়া এলাকার একজন সফল কৃষক তিনি। এই সফল কাজে দারুণভাবে উৎসাহিত হয়ে তার তত্ত্বাবধানেই প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন পুরুষ ও নারী শ্রমিক কৃষিতে যোগদান করেছিলেন। এখন তার এই কৃষিকাজের সফলতা দেখে অনেকে নিজ আগ্রহে কৃষিতে এগিয়ে আসতে চাইছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার কৃষি কার্যালয়ের সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে কুমার দুধবংশীর নাম।

রোববার সকালে খাইছড়া চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, কুমার দুধবংশী নিজের ঝিঙ্গাক্ষেতে কাজ করেছেন। শেড পদ্ধিতে শুধু ঝিঙ্গা নয়, অনেক সবজি রয়েছে তার এই ক্ষেতজুড়ে। তারতাজা লম্বা লম্বা ঝিঙ্গাগুলো গাছের ডালে ঝুলে আপন স্বার্থকতার জানান দিচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে কুমার দুধবংশী বলেন, আট থেকে দশ আগে কৃষিবিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কিছু সবজি লাগিয়েছিলাম। খুব ভালো হয়েছিলো সেই ফসলগুলো। নিজ হাতে লাগানো সেই ফলসগুলো দেখে দারুণভাবে উৎসাহ লাভ করি। এখন তো পুরোপুরিভাবে কৃষি কাজ করছি। আমার এলাকায় ২৫ থেকে ৩০ জন কৃষক আছেন, তাদের দলপ্রধান আমি।

জায়গার পরিমাণ এবং শ্রমিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার মোট জমির পরিমাণ ৩০ শতাংশ। আমার সবজি বাগানে দুইজন শ্রমিক কাজ করেন, তাদের দৈনিক মজুরি ২০০ টাকা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তারা কাজ করেন। এখন গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে ঝিঙ্গা, করলা, ঢেঁড়স, শশা প্রভৃতি। শীতকালে ফলাই আলু, টমেটো, বেগুন, মিষ্টি লাউ প্রভৃতি।

সবজিক্ষেতে সার প্রয়োগ প্রসঙ্গে কুমার দুধবংশী বলেন, আমার প্রতিটি সবজিই বিষমুক্ত। আগে গোবর সার, এমওপি, ইউরিয়া এবং টিএসপি সারগুলো ব্যবহার করতাম। এখন আমাকে কৃষি কার্যালয় থেকে কেঁচো থেকে উৎপন্ন জৈব সার দেওয়া হচ্ছে। এগুলোর অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব এবং মাটি ও কৃষির জন্য দারুণ উপকারী। এই জৈব সার দিলে অন্যকোনো সারের আর প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়াও ‘সেক্স ফেরোমেন’ (কৃত্রিম ফাঁদ) দিয়ে ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড়গুলোকে দমন করা হচ্ছে।

উৎপাদিত সফলের বিক্রয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঝিঙ্গাগুলো চৈত্র মাসে লাগানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা ঝিঙ্গা বিক্রি করেছি। পুরো জৈষ্ঠ্য মাস ধরে এই ঝিঙ্গাগুলো বিক্রি হলে মোট ২৪ থেকে ২৫ হাজারে গিয়ে দাঁড়াবে। এই সবজি ক্ষেতের ঝিঙ্গাচাষে মাত্র ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছিলো।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা বলেন, কুমার দুধবংশী আমাদের উপজেলার একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। অনেক পরিশ্রম করতে পারেন তিনি। তার দেখাদেখি এলাকায় অনেক লোক কৃষিতে এসেছেন এবং আমাদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সফলভাবে কৃষিজাত নানান পণ্য চাষাবাদ করছেন।

এক সময় কুমার দুধবংশী চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন। আমাদের পরামর্শে কৃষি ফসল উৎপাদন এবং বাজারজাত করে পাল্টে ফেলেছেন নিজের ভাগ্য। এখন পুরোপুরিভাবে কৃষিতে নিয়জিত আছেন তিনি বলে যোগ করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ১২:১৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।