শুক্রবার ১২ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ধূপখোলা মাঠে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা

বিবিএনিউজ.নেট   |   শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯   |   প্রিন্ট   |   556 বার পঠিত

ধূপখোলা মাঠে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা

বৈশাখ এবং বাঙালি শব্দ দুটো যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাঙালির হৃদয়জুড়ে রয়েছে বৈশাখ। বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। নতুন বর্ষ বরণের পাশাপাশি উৎসবকে পরিপূর্ণতা দেয় বৈশাখী মেলা। এ মেলা বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য।

পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে শহর-গ্রামের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় মেলার। মেলা চলে মাসজুড়ে।

বাঙালির চিরাচরিত এ মেলা গ্রামীণ জীবনে দেখা মিললেও ইটপাথর আর কংক্রিটের উঁচু উঁচু দালানের শহরে খুব কমই দেখা মেলে। রাজধানী ঢাকার যে কয়েকটি স্থানে বৈশাখী মেলা দেখা যায় তার মধ্যে অন্যতম পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠের মেলা। প্রায় প্রতি বছরই বৈশাখ উপলক্ষে এখানে আয়োজন করা হয় এ মেলার। প্রতি বছরই বৈশাখ মাসজুড়ে চলে মেলা। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম মাত্র ১০ দিনের মেলা চলার অনুমতি দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সময় কম তাইতো এবার যেন মেলায় উপচে পড়া ভিড় দর্শনার্থীদের।

মেলায় ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে দোকানিরা সাজিয়ে বসেছে হরেক রকমের পণ্য। কী নেই এ মেলায়! আর এখানে রয়েছে বিভিন্ন রকমের খাদ্যদ্রব্য, শিশুদের খেলার সামগ্রী, রয়েছে হরেক রকমের কসমেটিকস পণ্য, বিক্রি হচ্ছে কামারের তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও বিভিন্ন রকমের তৈজসপত্র।

মেলায় ঢুকতেই মূল গেটের সঙ্গে রয়েছে কয়েকটি খাদ্য সামগ্রীর দোকান। এখানে বিক্রি হচ্ছে বাতাসা, মুড়কি, কদমা, মুরলি, খাগড়াই, নিমকি, গুড়ালি, মালশা, লাড্ডু, মাছের বড়া, গুড়ের বাতাসা, নকুল দানা, তিলের খাজা, নারিকেলের লাড্ডু, বাদাম পাপড়ি, ছানার সন্দেশ, শনপাপড়ি, চিনি ও গুড়ের মুড়ালি, কড়ই ভাজিসহ আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য।

মেলার উত্তর ও দক্ষিণ দিকে রয়েছে শিশুদের খেলনা ও নারীদের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রণ্য সামগ্রী। শিশুদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন রকমের পুতুল, টেডি বিয়ার, প্লাস্টিকের বন্দুক, খেলনা গাড়ি, উড়োজাহাজসহ হরেক রকমের খেলনা। রয়েছে মাটির বিভিন্ন ফল ও পশু পাখির প্রতিকৃতি। মেলার এক প্রান্ত ঘেঁষে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন শিশুতোষ বই।

নারীদের জন্য মেলায় আলাদা আলাদা স্টলে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন কসমেটিকস পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে চুড়ি, লকেট, ব্যাগ, আলতা, কাজল, মাশকারা, লিপিস্টিক, আইলেনার, মেকাপবক্স, পায়েল, বিভিন্ন প্রকারের মালা, চুলের খোঁপা ইত্যাদি।

এ ছাড়া শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, মিনিট্রেন, নৌকা ও দোলনা।

মেলায় পাওয়া যাচ্ছে কামারে তৈরি দা, বটি, যাতি, কড়াই, নারিকেল কুরানি, কোদাল, বেলন ও পিঁড়ি।

মেলায় ঘুড়তে আসা একজন দর্শনার্থী বলেন, বৈশাখী মেলা সাধারণত গ্রামে বেশি হয়। শহরে খুব কম জায়গায় বৈশাখী মেলার আয়োজন দেখা যায়। ধূপখোলা মাঠে প্রতিবারের মতো এবারও আমরা মেলায় এসেছি। বাচ্চাদের মেলায় নিয়ে এসেছি তারা এখানে নাগরদোলা, নৌকা ও মিনিট্রেন এ উঠে খেলা করছে। এ ছাড়া মেলা থেকে বিভিন্ন প্রকারের জিনিসপত্র কিনেছি।

মেলায় ঘুড়তে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মেলায় এসে আমার ছোটবেলার গ্রাম্য মেলার কথা মনে পড়ে গেল। গ্রামীণ বৈশাখী মেলায় যেমন বিভিন্ন ধরনের আয়োজন থাকত ছোট পরিসরে হলেও এ মেলায় সেই রকম আয়োজন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। মেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের এখানে বিনোদনের জন্য নিয়ে আসছে। মেলায় নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন রকম পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন স্তরের মানুষ মেলায় ঘুরতে আসছে।’

মেলায় বেশ কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্ধের দিনগুলোতে মানুষের ভিড় বেশি থাকে। এখন পর্যন্ত ভালো বেচাকেনা হয়েছে। তবে এবার মাত্র ১০ দিনব্যাপী হওয়ায় তারা বেশি পণ্য সামগ্রী তৈরি করতে বা আনতে পারছে না। মেলার সময় বাড়লে বিক্রি আরও বেশি হতো বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সমগ্র মেলা ঘুরে দেখা যায়, শিশুদের খেলার সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে বেশি। তাছাড়া বিভিন্ন কসমেটিক পণ্য ও খাদ্যদ্রব্যের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

মেলার নিরাপত্তার জন্য ভেতরে রয়েছে পুলিশের ক্যাম্প। এখানকার কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, মেলায় যেন কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে।

Facebook Comments Box
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

Posted ২:০৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১  
প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
নিউজরুম:

মোবাইল: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১

ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫, ই-মেইল: bankbima1@gmail.com

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।