শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

Ad
x
জাতীয় পাট দিবস শুক্রবার

পাটপণ্য রপ্তানিতে কর ছাড় ও নগদ সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬   প্রিন্ট   ৩৯ বার পঠিত

পাটপণ্য রপ্তানিতে কর ছাড় ও নগদ সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ

বাংলাদেশ সরকার পাটপণ্য রপ্তানিতে কর ছাড় এবং নগদ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর দেশীয় অর্থনীতির নির্ভরতা কমাতে চাইছে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকা পাটকল পুনরায় চালু করে বেসরকারি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। জাতীয় পাট দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়েছিল।

শুক্রবার (৬ মার্চ) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতি ভার্চুয়ালি পাট দিবসের উদ্বোধন করবেন। এবারের প্রতিপাদ্য‘পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত, এবং সোনালি আঁশের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪১৮.৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট পাট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৩.৮০ লাখ মেট্রিক টন, এবং রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮২০.৮ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কাঁচা পাট রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৪৮.৪৮ মিলিয়ন ডলার, এবং পাটপণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে প্রায় ৬৭১.৬০ মিলিয়ন ডলার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচাপাট রপ্তানির কারণে দেশীয় শিল্প কাঁচামাল সংকটে পড়েছে। অন্যদিকে ভারতসহ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের কাঁচা পাট ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়াজাত ও ফিনিশড পাটপণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা বাড়ানো হবে, যাতে উদ্যোক্তারা উচ্চমূল্য সংযোজনমুখী বিনিয়োগে উৎসাহিত হন।

এছাড়া, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন মিলগুলো দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় বেসরকারি খাতে চালু রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৯টি ইজারাকৃত মিলে প্রায় ৭,২০০ শ্রমিক কাজ করছেন।

পাটখাতের উন্নয়নের জন্য স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, পাট অধিদপ্তরের ১৫ ধরনের লাইসেন্স অনলাইনে প্রদান করা হবে। পাট আইন সংশোধন, বিশেষ প্রণোদনা, ‘জুট পোর্টাল’ চালু, শিল্প-একাডেমি সমন্বয়, পৃথক টাস্কফোর্স গঠন এবং পাটশিল্পভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ‘গোল্ডেন ফাইবার অব বাংলাদেশ’ নামে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংও করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ বাস্তবায়নের ফলে দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৫০ কোটি পাটের বস্তার চাহিদা তৈরি হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৮–৯ হাজার কোটি টাকা। পাট আইন, জাতীয় পাটনীতি এবং চারকোল নীতিমালা প্রণয়ণ করে খাতটিকে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

পাটচাষীদের সহায়তায় ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় ৬.২৫ লাখ চাষিকে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষিযন্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাটখড়ি থেকে চারকোল উৎপাদন এবং পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা খাতের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে ৬–১৪ মার্চ রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী শেষ করছেন, “পাটশিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। সোনালি আঁশের সোনালি দিন আবারও ফিরিয়ে আনা আমাদের লক্ষ্য।”

Facebook Comments Box

Posted` ৬:৫৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

প্রধান সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com