নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট ১৯ বার পঠিত
গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত নয়, সেই দেশ কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ আবারও গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছে। এ অগ্রযাত্রাকে সুসংহত ও টেকসই করতে হলে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য— এ কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ (অ্যাক্সেস টু জাস্টিস) থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার আইনি সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। কোনো ভুক্তভোগী যেন কেবল অর্থসংকটের কারণে আইনজীবীর সহায়তা নিতে না পারেন— এ বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার শুধু আইনের বইয়ের বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনে বাস্তব ও কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হওয়া উচিত—এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। ন্যায়বিচার কেবল আদালতকেন্দ্রিক কোনো প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ, যা রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি, সিদ্ধান্ত এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
‘ন্যায়পরায়ণতা তখনই অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন আইন মানুষের ওপর প্রয়োগের একটি যান্ত্রিক উপায় না হয়ে বরং তাদের মর্যাদা সংরক্ষণ এবং প্রাপ্ত অধিকার নিশ্চিত করার একটি গভীর নৈতিক অঙ্গীকারের রূপ নেয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসেও এ ন্যায়বোধ একটি শক্তিশালী প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। যেহেতু ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। যেহেতু সেই অধিকার যাতে প্রত্যেকটি মানুষ চর্চা করতে পারে তাদের সরকার যথাসাধ্য লিগাল এইড দেবে। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে।’
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এই আলোচনা সভা হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা নেন।
এছাড়া সারাদেশে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি সেল ব্র্যাককে মনোনীত করা হয়। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পত্র ও ক্রেস্ট নেন।
লিগ্যাল এইড ব্যবস্থায় মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারাবিশ্বে একটি কথা বিশেষভাবে প্রচলিত। সেটি হচ্ছে জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনাই। অর্থাৎ বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে লিগাল এইডের মাধ্যমে মামলার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
‘এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাজার বা তারও বেশি হবে, হাজারেরও বেশি হবে…বিরোধ-বিবাদ স্বল্প সময় এবং খুব খরচে আদালতের বাইরেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা বছরের পরিবর্তে বরং কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানগুলো করা সম্ভব হয়েছে। এতে আদালত চাপ কমেছে। সরকারের খরচও হ্রাস পেয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় মানুষ সমস্যা হলে প্রাথমিকভাবে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ার কারণে একদিকে সাধারণ বিরোধ বড় হয় এবং পরবর্তীতে তা জটিল রূপ ধারণ করে। ফলে অনেক সময় মানুষ বিচার বিমুখ হয়ে যায় কিংবা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। সুতরাং মানুষ যেন সহজে প্রাথমিক আইনি পরামর্শ নিতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের লিগাল এইড হেল্পলাইন আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ব্যক্তিগতভাবে একজন নাগরিক হিসেবে আমি সেটি আশা করি।’
‘প্রতিটি মানুষের মনে এমন বিশ্বাস থাকতে হবে যে জনগণের যে কোনো প্রয়োজনে রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে। লিগাল এইড সেই বিশ্বাসেরই একটি প্রতিফলন বলে আমি বিশ্বাস করি। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলি। যেখানে ন্যায় বিচারই হবে শেষ কথা আমাদের। আমি জাতীয় আইনগত সহায়তার উদ্যোগের সার্বজনীন সাফল্য কামনা করি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, এক্সেস টু জাস্টিস। প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় কিংবা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত থাকবে এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই কাম্য বা প্রত্যাশিত নয়।’
‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তখন আমি নিজে কারাগারে এমন অনেককে দেখেছি যারা শুধু আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বা হয়েছেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বা হয়েছেন। একজন মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাম্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘যে কোনো রাষ্ট্র এবং সমাজের অগ্রগতি ও শান্তির ভিত্তি হচ্ছে ন্যায়বিচার। সব যুগেই মানুষ যা চেয়েছে তা হলো বৈষম্যহীন একটি সমাজ ব্যবস্থা। যেখানে তারা সমমর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। সমতা, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক আস্থা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা জন্য অবশ্যই অপরিহার্য।’
‘আমি বলবো, ন্যায়বিচার শুধু আদালত বা আইনের বিষয় নয়। এটি একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল শক্তি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপরে শক্তভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ায় পথ সুগম করতে লিগাল এইড ফার্ম তৈরি করেছিলেন।’
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
Posted ০৪:৪২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com