নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ২৮ বার পঠিত
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে প্রস্তুতি বৈঠক করেছে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা, দেশের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে ১১ দল কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের বিভিন্ন দাবি নিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে আশাতীত সাড়া পাওয়া গেছে। জনবান্ধব ইস্যু হওয়ায় মানুষ এ কর্মসূচিতে সাড়া দিয়েছে।
তিনি জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হবে। এর আগে সকাল ৭টায় জমায়েত এবং সকাল ৮টা পর্যন্ত উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ যাত্রা করবে।
লংমার্চের পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১১ দলের ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। নতুন করে দুর্নীতি, দখলদারি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি যুক্ত করা হয়েছে। কারণ এসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সংসদে নোটিশ দিয়ে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার প্রথম দিনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়কে উপেক্ষা ও প্রত্যাখ্যান করেছে। এটি গণতন্ত্রের ওপর চপেটাঘাত এবং গণরায়ের প্রতি অবজ্ঞা।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সরকার দেশের তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন করতে পারেনি। সংকট মোকাবিলায় বিরোধীদলীয় নেতা টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। বরং সংকটের কৃত্রিম অজুহাত দেখিয়ে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে।
গ্যাস সংকটের কারণে একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে হামিদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। কোনো সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলায় সরকার বারবার যে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, তা জাতির কাছে স্পষ্ট। গত ছয় মাসে সংকট নিরসনে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার ‘সিঙ্গেল ট্রাফিকে’ চলছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, দেশে সার সংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে গোটা জাতি খাদ্য সংকট ও ভোগান্তিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও বাজার মনিটরিংয়ে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। খুন, গুম ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। বিরোধী দলের ওপর হামলা করা হচ্ছে। জামায়াতের পাঁচ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে বিরোধীদল সংসদে আলোচনা এবং রাজপথে কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।
সরকারের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি দুর্নীতি দমনের কথা বলেছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পরও দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ হয়নি। এতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে এবং দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। কিন্তু সরকার বিরোধীদলের কোনো প্রস্তাবই আমলে নিচ্ছে না। সংসদের মাধ্যমে সংকটের সমাধান না হওয়ায় ১১ দল রাজপথে নেমেছে।
১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন হামিদুর রহমান আযাদ। একই সঙ্গে লংমার্চ ও পথসভাগুলো সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী ও মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইযহার, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ইউসূফ আলী ও মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
Posted ০৮:৩১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com