|

Advertisement
×

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়: প্রধানমন্ত্রী

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬   প্রিন্ট   ১২ বার পঠিত

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়: প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এক-দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপুল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

হাসান শিপুল বলেন, জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারকে তার মেয়াদে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’

তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। এর প্রভাব শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন খাতে পড়েছে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক-দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’

ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।

২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালকে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো কিছু পরিকল্পনা করা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’

সরকার কবে নাগাদ কাজগুলো শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান উপপ্রেস সচিব। তবে বাস্তবায়নে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সামনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ে। তাই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে এবং কীভাবে সেগুলোর সমাধান করা হবে, সেটিও জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এতটুকু আমরা আপনাদের জানাতে চেয়েছি যে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার মতো কারণ নেই।’

সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ উপকৃত হবে।

দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে গণমাধ্যম পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছেও সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে হলে কার্যকর একটি দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক এবং বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনামসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যমের মধ্যে দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন ও তরিকুল ইসলাম সৌরভ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহরিন ইসলাম খান সভায় অংশ নেন।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:০১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com