নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৭ বার পঠিত
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষের নেতারা দাবি করেছেন। আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার সকালে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এর আগে রোববারও তারা সেখানে কর্মসূচি পালন করেন। সোমবার সকালে তাদের অবস্থানের কিছুক্ষণ পর ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবিতে সেখানে অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক দাবি করেন, তাদের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা কর্মসূচি পালন করছেন। তার ভাষ্য, গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তাদের ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তারা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। সেখানে আসার প্রায় ২০ মিনিট পর গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালান বলে তার অভিযোগ। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। হামলায় তাদের ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
তবে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। ফলে সংঘর্ষের সূত্রপাত এবং হামলায় কারা প্রথমে জড়িত ছিল, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি:
সংঘর্ষের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দ্রুত পুনর্গঠন করে ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা। সোমবার দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়ছে। তাই দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যতক্ষণ পর্যন্ত কর্মসূচির বিপরীত অবস্থানে থাকা পক্ষ বা বহিরাগতদের সরিয়ে না দেবে, ততক্ষণ গ্রাহকদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের সহসভাপতি মুতাসিম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও দাবি করেন তিনি।
টাকা তুলতে না পারার অভিযোগ:
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ইসলামী ব্যাংকের এক গ্রাহক জানান, তিনি দীর্ঘ নয় বছর ধরে ব্যাংকটির নিয়মিত ও সনদপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী গ্রাহক। ব্যবসার প্রয়োজনেও এখন তিনি ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ তুলতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন।
তার অভিযোগ, গত কয়েক বছরে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনশীল খাতকে দুর্বল করতে ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তাদের ওপর বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে। আহত হওয়ার পরও দাবির প্রতি সংহতি জানাতে তিনি কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান রক্ষায় দ্রুত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনেও অবস্থান:
এদিকে সংঘর্ষের পর চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেয়। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ বলেন, সকালের ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান করছেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়ায় তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
Posted ০৬:৫০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com