নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ১২ বার পঠিত
বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজের উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে গভীর উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন -বিএইচআরএফ।
সংগঠনটির চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট এলিনা খান এবং মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেছেন, একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়; এটি রাষ্ট্রের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুতর বিষয়।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ১৫,৭১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩,৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে ২,০৩৮ শিশু এখনও নিখোঁজ বা অচিহ্নিত অবস্থায় রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে নিখোঁজ শিশুদের বড় একটি অংশের বয়স ১০ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।বিএইচআরএফ-এর চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, নিখোঁজ প্রতিটি শিশুর ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
কোনো শিশু পারিবারিক বিরোধ, মানসিক চাপ, দারিদ্র্য, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা কিংবা অন্য কোনো কারণে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেও তাকে দ্রুত খুঁজে বের করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অপহরণ, মানব পাচার, যৌন নির্যাতন, শিশুশ্রম, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করতে হবে।
বিএইচআরএফ-এর মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, নিখোঁজ শিশুর পরিবারের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অনুসন্ধান ও উদ্ধারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুততম সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুদের তথ্য সংরক্ষণ, অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেজ ও কেস-ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, শিশু নিখোঁজের ঘটনায় শুধু শিশুকে উদ্ধার করাই যথেষ্ট নয়; কেন সে নিখোঁজ হলো, কী পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো ব্যক্তি, সংঘবদ্ধ চক্র বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত ছিল কি না—তা খুঁজে বের করতে হবে। প্রয়োজনে উদ্ধারকৃত শিশুদের কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠন মনে করে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সমাজসেবা অধিদপ্তর, শিশু সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।এক্ষেত্রে MUN Alert-এর মতো জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট নীতিমালা ও জবাবদিহিতার আওতায় পরিচালনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিএইচআরএফ। কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তার ছবি, পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য আইনগত সীমার মধ্যে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে উদ্ধারের সম্ভাবনা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেতে পারে।বিএইচআরএফ-এর চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট এলিনা খান এবং মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান নিখোঁজ ২,০৩৮ শিশুকে উদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ, প্রতিটি নিখোঁজের ঘটনায় পৃথকভাবে কার্যকর তদন্ত, সম্ভাব্য মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র শনাক্তকরণ এবং নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন একই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের মানসিক চাপ ও সামাজিক সংকট সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং শিশুদের অনলাইন ও অফলাইন নিরাপত্তার বিষয়ে যথাযথ নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে।প্রতিটি শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। কোনো শিশু নিখোঁজ হয়ে গেলে তাকে খুঁজে বের করা এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়—এটি রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত মানবিক ও আইনগত দায়িত্ব।
Posted ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com