|

Advertisement
×
বোর্ড সভা না করেই রেজুলেশনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের

ফ্যাসিস্ট দোসর আসলাম রেজাকে স্বদেশ লাইফে সিইও করার প্রস্তাব

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬   প্রিন্ট   ৬৮ বার পঠিত

ফ্যাসিস্ট দোসর আসলাম রেজাকে স্বদেশ লাইফে সিইও করার প্রস্তাব

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত এস এম আসলাম রেজাকে (মো. আসলাম) স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) করার প্রস্তাব বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির ৫৩তম বোর্ড সভা আদৌ অনুষ্ঠিত হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নুরুল আলম চৌধুরী।

গত ৯ সেপ্টেম্বর স্বদেশ ইসলামী লাইফের কোম্পানি সচিব মো. সাজিদ হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে জানানো হয়, গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত কোম্পানির ৫৩তম বোর্ড সভায় মো. আসলামকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র দ্রুত আইডিআরএতে জমা দেওয়া হবে।

তবে ওই বোর্ড সভা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নুরুল আলম চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদের সভা না করেই একটি ‘সিন্ডিকেট’ নিজেদের মতো করে রেজুলেশন তৈরি করে আইডিআরএতে পাঠিয়েছে। কোম্পানিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে একটি নির্দিষ্ট বলয়ের লোকজনকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংম্লিষ্টদের অভিযোগ, কোম্পানিটি এখনো বীমা আইন লঙ্ঘন ও নানা অনিয়মের দায়ে নিয়োগ নবায়ন না মঞ্জুর হওয়া সাবেক সিইও ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের সিন্ডিকেটের দখলে। কোম্পানিটি এখনো তার অদৃশ্য প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তার প্রভাবিত সিদ্ধান্তেই সাজিদকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইডিআরএর ২০২৩ সালের একটি সিদ্ধান্তে তাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বদেশ লাইফের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা অংশগ্রহণে বিধি নিষেধ দেয়া হয়েছে। কিন্তু আইডিআরএর নির্দেশনা লঙ্ঘন করে তাকে স্বদেশ লাইফের পরিচালকও করেন পর্ষদ চেয়ারম্যান।

কোম্পানির নামে পাঠানো ৫৩তম বোর্ড সভার রেজুলেশনে বলা হয়েছে, কোম্পানির অন্যতম পরিচালক মারজানুর রহমান আইডিআরএর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের পক্ষ থেকে মো. আসলামকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রস্তাব করেন। এতে উপস্থিত সব পরিচালক সর্বসম্মতিক্রমে সম্মতি দেন বলেও রেজুলেশনে উল্লেখ রয়েছে।

আইডিআরএর সিদ্ধান্ত পাওয়ার আগেই বোর্ড সভা নিয়ে প্রশ্ন:

আসলাম রেজাকে সিইও করার প্রস্তাবের পাশাপাশি বিষয়টির সঙ্গে আইডিআরএর আগের একটি সিদ্ধান্তের সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে স্বদেশ ইসলামী লাইফের সিইও পদে মো. সাজিদ হোসেনের নিয়োগ প্রস্তাব নামঞ্জুর করে আইডিআরএ। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে সিইও পদে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর কারণেও কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

গত ২৭ আগস্ট আইডিআরএর লাইফ অনুবিভাগের পরিচালক ও উপসচিব দেবপ্রসাদ পাল স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রবিধানমালা অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করে দ্রুত নতুন করে সিইও নিয়োগের প্রস্তাব পাঠাতে স্বদেশ ইসলামী লাইফকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এখানেই প্রশ্ন উঠেছে-আইডিআরএর ওই সিদ্ধান্তের চিঠি জারি হয়েছে ২৭ আগস্ট, অথচ তার আগেই ২৪ আগস্টের বোর্ড সভায় আসলাম রেজাকে সিইও করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো? আইডিআরএ’র নির্দেশনা পাওয়ার আগেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে বোর্ড সভা না করেই রেজুলেশন করার অভিযোগটি আরো জোরালো যুক্তিতে সামনে এসেছে।

জাহিদ মালেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতির অভিযোগ:

সূত্র জানায়, বিতর্কিত এস এম আসলাম রেজা ছিলেন ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মালিকানাধীন সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি)। পদে ছিলেন এএমডি, কিন্তু কার্যত ছিলেন মালেক পরিবারের প্রতিনিধি। এই কোম্পানিটিতে প্রভাব খাটিয়ে বিতর্কিত ভূমিকায় ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মানিকগঞ্জে জাহিদ মালেকের নির্বাচনি সমন্বয়ক রেজা ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক। অভিযোগ রয়েছে, আসলাম রেজা বীমা খাতের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে মূলত তদবিরবাজি ও টেন্ডার বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত ছিলেন জাহিদ মালেকের তল্পিবাহক বা ক্যাশিয়ার হিসেবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় জাহিদ মালেকের পরিবার সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গড়ে তোলে পারিবারিক সিন্ডিকেট। চেয়ারম্যান করা হয় বোন অধ্যাপক রুবিনা হামিদকে, পরিচালক হন স্ত্রী শাবানা মালেক, ছেলে রাহাত মালেক ও ভগ্নিপতি কাজী আখতার হামিদ। কোম্পানির হাজারো গ্রাহকের দাবি বকেয়া রেখেই পরিবারটি শেয়ার বিক্রি করে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে জড়িয়ে পড়ে। সেই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য ছিলেন আসলাম রেজা।

তবে এ বিষয়ে আসলাম রেজার বক্তব্য জানতে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

 

Facebook Comments Box

Posted ০৯:০৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com