নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 123 বার পঠিত
বস্ত্র ও পাটশিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে কোনো আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে পাটখাতে ভুল সিদ্ধান্ত ও কৌশলগত দুর্বলতার কারণে যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়েছে, বস্ত্রশিল্পে যেন একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি না হয় সে বিষয়ে সরকার সচেতন।
গতকাল জাতীয় বস্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বস্ত্র শিল্পের প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি।
উপদেষ্টা বলেন, পাটশিল্পে দক্ষতা ঘাটতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবতা বিবেচনা না করে স্বপ্ন দেখানোর কারণে শিল্পটি দীর্ঘদিন সংকটে পড়েছিল। তিনি বলেন, ‘পাটখাতে যেসব ভুল আমাদের পিছনে ঠেলে দিয়েছে, বস্ত্রখাতে সে ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে দেব না। আবেগ নয়- অর্থনীতি, দক্ষতা ও বাজার বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তার মতে, টেক্সটাইল খাতে সাফল্যের পেছনে অনেক উদ্যোক্তার শ্রম, অভিজ্ঞতা ও পেশাদার জ্ঞান রয়েছে। উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে না পারলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘খরচ কমানো, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এ শিল্প টেকসই হবে না। আমরা ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য ধরেছি, যেখানে বস্ত্রখাতের অবদান ৮৬ শতাংশ।’
সংবাদ সম্মেলনে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের নিজেদের এ কারণে সরকার তাদের ব্যাখ্যা চাইছে এবং আলোচনার জন্য তলব করেছে। পরিত্যক্ত জুট মিল শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ধীরে ধীরে এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১৪টি মিল ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে গিয়েছে, আরও কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি লিজে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ জনপ্রিয় করতে সরকার জলবায়ু তহবিলের আওতায় ১,৬০০ উদ্যোক্তাকে যুক্ত করে একটি রিভলভিং ফান্ড গঠন করেছে, যেখান থেকে পণ্য কিনে সাশ্রয়ী দামে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আসন্ন বাণিজ্য মেলায় ১০ লাখ পাটের ব্যাগ বাজারজাত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশীয় ঐতিহ্যের এ পণ্য আবার সাধারণ মানুষের ব্যবহারে ফিরিয়ে আনা যায়। উপদেষ্টা শেষে বলেন, ‘পাট ও বস্ত্র উভয় খাতকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে যার লক্ষ্য স্থিতিশীল শিল্প, দক্ষ কর্মশক্তি ও স্থায়ী প্রবৃদ্ধি।’
Posted ৬:১৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy