বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

ব্যাংক খাতের সংকট না কাটলে অর্থনীতির ধস ঠেকানো যাবে না: হোসেন জিল্লুর রহমান

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬   প্রিন্ট   ১১০ বার পঠিত

ব্যাংক খাতের সংকট না কাটলে অর্থনীতির ধস ঠেকানো যাবে না: হোসেন জিল্লুর রহমান

দেশের ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকটের সমাধান না হলে সামগ্রিক অর্থনীতির ধস ঠেকানো সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের এই সংকট কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি রাজনৈতিক অর্থনীতিরও সংকট। ফলে এর সমাধানে শুধু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘দেশের ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়; প্রেক্ষিত ইসলামী ব্যাংকিং খাত: জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে ব্যাংক খাতের বর্তমান সংকট, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের অবস্থা ও উত্তরণের পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও কয়েকটি বিষয়ে সবার ঐকমত্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়, অতীতের কলুষিত নীতি-প্রক্রিয়ার প্রভাব, আমানতকারীদের দুর্ভোগ, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, পরিবর্তনের সুযোগ এবং টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তা। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের সংকট এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে অনেক আমানতকারী নিজেদের জমা টাকা তুলতে পারছেন না। এতে মানুষের আস্থার সংকট আরও গভীর হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীন করতে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে যারা দায়িত্বে আসবেন, তাদের তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। (এক) নৈতিকতা বজায় রাখা, (দুই) পেশাদারিত্ব এবং (৩) সংকট সমাধানে সাহসী উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ ব্যাংককে সত্যিকারের কার্যকর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ জন্য দায়িত্বশীলদের নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংক খাত দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে পুরো অর্থনীতি আজ ঝুঁকির মুখে। তিনি বলেন, ব্যাংক দখল ও লুটের ঘটনা নিয়ে এখন যেসব তথ্য বেরিয়ে আসছে, তা থ্রিলার চলচ্চিত্রের গল্পকেও হার মানায়। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন আস্থার সংকট। মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে ভয় পাচ্ছে, অনেক জায়গায় টাকা তুলতে লাইন পড়ছে। এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া ব্যাংক খাতের সংস্কার সম্ভব নয়। অতীতে যেসব লুটপাট হয়েছে, সেগুলোর হিসাব আলাদা করে চিহ্নিত করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সেমিনারে অংশ নেওয়া ইসলামী ব্যাংকের কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করা হয়েছিল। তারা বলেন, ব্যাংক খাত নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে গ্রাহকেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাতের বর্তমান সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শুধু আর্থিক নয়, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments Box

Posted ০৫:৫০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com