এম এ খালেক
রবিবার, ১০ আগস্ট ২০২৫ প্রিন্ট ৭২৬ বার পঠিত
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনু মোহম্মদ বলেছেন, গত বছর জুলাই আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে একনায়কতান্ত্রিক শেখ হাসিনা সরকার পতন হলে দেশব্যাপী নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। তারা প্রত্যাশা করেছিল, দেশ থেকে সব ধরনের বৈষম্য এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু বিগত এক বছরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে কার্যকলাপে গণপ্রত্যাশা পূরণের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবস্থা আগের চেয়েও বিপর্যয় ঘটেছে। ফলে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য সফল হবার আপাতত কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি পত্রিকার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে আনু মুহাম্মদ এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আগামীতে দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন এবং উন্নয়নে কতটা অবদান রাখতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি পত্রিকার জন্য সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন এম এ খালেক।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বছর পূর্ণ করলেন। এই প্রেক্ষিতে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই?
অধ্যাপক আনু মোহম্মদ: ৫ই আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি দিন। গত বছর ছাত্র জনতার মাসাধিককাল ধরে চলা সরকার বিরোধী আন্দোলনের সফল পরিণতি ঘটে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের একটানা শাসনের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে। গত বছরের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল বিস্ময়কর এবং নবচেনতায় উদ্দীপ্ত। ছাত্ররা সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সুবিধা সংস্কারের দাবিতে প্রাথমিকভাবে আন্দালন শুরু করে। পর্যায়ক্রমে সেই আন্দোলন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। পরবর্তীতে সরকারের অসহিষ্ণু আচরণ ও নির্মম নির্যাতনের কারণে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন বেগবান হয় এবং এপর্যায়ে তা সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে পরিণত হয়। সরকার যদি শিক্ষার্থীদের আলোচনায় ডেকে তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতেন তাহলে হয়তো শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এতটা তীব্র আকার ধারণ করতো না। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে থেকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি উপেক্ষা করা হয়। ফলে এক পর্যায়ে তারা সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে লিপ্ত হয়। আমাদের দেশে সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলোই সরকার পতনের আন্দোলন করে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাতে যুক্ত হয়। কিন্তু গত বছর জুলাই-আগস্ট মাসে সরকার পতনের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তার সূচনা হয়েছিল ছাত্রদের মাধ্যমেই। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলো সেই আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়। সরকার আন্দোলন দমনের নামে যতই নির্যাতন চালাতে শুরু করে আন্দোলন ততই বেগবান হয়। এক পর্যায়ে সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশত্যাগে বাধ্য হন। গত বছরের শিক্ষার্থী আন্দোলনের একটি বৈশিষ্ট ছিল এতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ব্যাপকভাবে অংশ গ্রহণ করে। এমনকি কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্তি হয়েছিল।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: প্রত্যেকবারই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের পর এক ধরনের গণপ্রত্যাশা সৃষ্টি হয়। যেমন হয়েছিল নব্বইয়ের স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের পর। তার চেয়েও বেশি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে চব্বিশের আন্দোলনের পর। সেই প্রত্যাশা কি পূরণ হবে বলে মনে করেন?
অধ্যাপক আনু মোহম্মদ: প্রত্যেকবার গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হলে এক ধরনের প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়। মানুষ মনে করে, তাদের সমস্যা সম্ভবত এবার নিরসন হবে। গত বছরের আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের নির্মম শাসনের অবসান হলে সব শ্রেণির মানুষের মনে উচ্চ প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়। কিন্তু সেই প্রত্যাশা ইতিমধ্যেই ফিকে হয়ে পড়তে শুরু করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কোনো ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়নি। প্রতিবার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন হলে কয়েকদিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও অতি দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। কিন্তু এবার তার ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সারা দেশব্যাপী সন্ত্রাস-নৈরাজ্য চলছে। বিশেষ করে মব সন্ত্রাস অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। সেনাবহিনীকে ম্যাজিস্ট্রসি পাওয়ার দিয়ে অপারেশর ডেভিল হান্ট পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। মানুষ ঘর থেকে বেরুতে সাহস পাচ্ছে না। সরকার এভাবে উল্টো পথে যাত্রা চালু রাখলে জনগণের দ্রোহ যাত্রা অব্যবহ থাকবে। দেশের মানুষের মাঝে বিভাজন ও বৈষম্য সৃষ্টির কারণে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। কিন্তু আমরা কি এখন বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি? রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে দৃঢ় ঐক্য গড়ে উঠেছিল তা শিথিল হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে দেশ আবারো আগের মতো নৈরাজ্যজনক অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সব শ্রেণি পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জীবন বাজি রেখে মাঠে নেমেছিল। এমন বিজয় আমরা অতীতেও বার বার দেখেছি। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বারবার বিজয় ব্যর্থ হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেভাবে বিভেদ সৃষ্টি হচ্ছে তার কারণে জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্যও ব্যর্থ হতে পারে।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: অনেকেই বলেন, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। আপনি কি বলবেন?
অধ্যাপক আনু মোহম্মদ: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে কথা বললেই বলা হয় সবকিছু রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আমরাও জানি সবকিছু রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা পরিবর্তনের সূচনা দেখতে চাই। কিন্তু সব কিছু আগের মতোই গতানুগতিক ধারায় চলছে। পাহাড় ও সমতলের মানুষ সমানভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। কারো নিরাপত্তা নেই। চব্বিশের আন্দোলন হয়েছিল কাজের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য কিন্তু এই সরকারের আমলে কোনো ক্ষেত্রেই বৈষম্য দূর হচ্ছে না। ছাত্র-জনতা শুধু এক সরাকারের পরিবের্ত আর এক সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আন্দোলন করেনি। রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সংস্কার প্রশ্নে একমত হতে পারেনি। কথায় কথায় আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। সরকার মব সন্ত্রস দমন করতে পারছে না। সরকারের কোনো কোনো কর্তাব্যক্তি মব সন্ত্রাসের পক্ষে সাফাই গাইছে।
আমাদের দেশে দেখা যায়, যারা বিভিন্ন সময় আন্দোলনে গিয়ে প্রাণ হারায় তাদের পরিবার পরবর্তীতে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এবারও তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যারা জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন তাদের সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। যারা আহত হয়েছেন তাদের সুচিকিৎিসা দিতে হবে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং যেসব পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে তাদের নিহত হবার প্রেক্ষাপটসহ আহতও নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: বিগত সরকার আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। এগুলো পুনরুদ্ধার এবং পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা কি পর্যাপ্ত বলে মনে করেন?
অধ্যাপক আনু মোহম্মদ: বিগত সরকার আমলে সাড়ে ১৫ বছরে দেশের অর্থনীতিকে লুটপাটের মাধ্যমে বিপর্যস্ত করে ফেলা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা সমতুল্য ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা জনগণকে জানানো প্রয়োজন। যারা ব্যাংক লুট করেছে, শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মামলা বাণিজ্য শুরু হয়েছে। যারা বিভিন্ন ধরনের সুনির্দিষ্ট অপরাধ করেছেন তাদের আইনের আওতায় আনা যেতে পারে। কিন্তু ঢালাওভাবে মামলা দায়ের করা হলে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হবে।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি রেট ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এটা ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে বলে মনে করেন কি?
অধ্যাপক আনু মোহম্মদ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় বাংলাদেশ সফল হয়েছে। কিন্তু অর্থনীতির অন্যান্য খাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য উল্লেখ করার মতো নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতিতে পলিসি রেট ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এটা করা হয়েছে মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিগত সরকারের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানোর নামে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেশি হলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বিঘ্নিত হবে। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার এখন অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত মাত্রায় বৃদ্ধি না পেলে আগামীতে অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে অনেকটাই কম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বিনিয়োগ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন অর্থনীতিবিদ বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি রেট কমানো যেতে পারে।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল তা রাজনৈতিক দলগুলোর কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে। আপনি কি মনে করেন?
অধ্যাপক আনু মোহম্মদ: দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটি জাতি বিভক্ত হয়ে পড়লে তা কোনোভাবেই সুফল দেবে না। এই মুহূর্তে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কার একটি দীর্ঘ মেয়াদি এবং চলামান প্রক্রিয়া। তাই সংস্কারের নামে সব কিছু বন্ধ করে বসে থাকা উচিত হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের সূচনা করতে পারেন। নির্বাচিত সরকার আসে সংস্কার সম্পন্ন করবেন। নির্ধারিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব শেষ করতে পারেন। বিগত সরকার আমলে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আগামীতে তারা যেনো সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, সুযোগ বারবার আসে না। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তাকে কাজে লাগাতে হবে।
Posted ০৩:১৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১০ আগস্ট ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com