নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ২৪ মে ২০২৫ প্রিন্ট ২৬৬ বার পঠিত
‘আবাসন সেক্টরের সংকট ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) স্থায়ী কমিটি সিনিয়র সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাউথ ডেভেলপারস ফোরামের (ডিএসডিএফ) সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা সাউথ ডেভেলপার ফোরামের ট্রেজারার কাজী মো. ওবায়েদ উল্লাহ।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আবাসন খাতসহ সকল ব্যবসা খাতই ভাল করতে হবে। গণতান্ত্রিক সরকার নিশ্চয় বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। তবে এখনই অনেক কিছু সংস্কার সম্ভব এবং এজন্যই আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি। নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় বলা এখন খুবই জরুরি তাহলেই জনগণের মধ্যে অস্থিরতা দূর হবে। রাজউক-এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রাজউক আমার প্লট বাতিল করে ২০১৫ সালে, আমি জানিই না। পরে ৫ আগস্টের পরে আবার আবেদনের ভিত্তিতে আরেক জায়গায় বরাদ্দ দেয় যা এখনও মাটিই ভরাট হয়নি। কিন্তু নানান ফি হিসাবে তো আমাকে ঠিকই টাকা দিতে হচ্ছে। রাজউক শ্রেণীস্বার্থে ড্যাপ করেছে, জনস্বার্থে নয়।’ আবাসন খাতের নেতৃত্বে প্রকৃত ব্যবসায়ীদেরই আনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘পোশাকধারী ও সরকারের সুবিধাবাদী কাউকে নেতৃত্বে আনলে আপনারাই বিপদে পড়বেন কারণ ওই ধরণের নেতারা সরকারের কথা শুনবে, আপনাদের কথা শুনবে না।’
বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ বক্তা আবাসন খাতের বৈষম্য তুলে ধরে তার অবসান চান এবং রিহ্যাবের কর্মকান্ডের সমালোচনা করেন। ল্যান্ড বাংলা প্রপার্টির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হামিদুর রহমান শাহাব বলেন, আবাসন খাতে গত সরকারের করা বৈষম্যমূলক আইন এখনও বাতিল হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে রিয়েল অ্যাস্টেট কোম্পানির ভবিষ্যত খুব খারাপ হবে। এফবিসিসিআই’র সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কাসেম হায়দার বলেন, সবার উচিত প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসকে সহায়তা করা। তাছাড়া স্বৈরাচারের বিচার হবে না। আর স্বৈরাচারের বিচার না হলে অপরিকল্পিত এ খাতকে বাঁচানো যাবে না। অনুষ্ঠানে সবাই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর সমালোচনা করে ড্যাপ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। কী-নোট স্পিকার ড. মো. হারুন অর রশিদ তার উপস্থাপনে আবাসন খাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বেশ কয়েকটি সুপারিশমালা উল্লেখ করেন। মিরপুর রিয়েল অ্যাস্টেট ফোরামের জেনারেল সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামীম হাসান, বিএনপি’র অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সাহেব আবাসন খাতে ভ্যাট ট্যাক্স কমিয়ে অনেক ইতিবাচক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তী সরকার সেগুলো পরিবর্তন করে ভ্যাট ট্যাক্স বাড়িয়ে দিয়ে আবাসন খাতের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন। উত্তরা রিয়েল অ্যাস্টেটের প্রেসিডেন্ট মো. ইব্রাহিম সরকার বলেন, বর্তমান নিয়মে আবাসন খাত চললে অচিরেই ধস নামবে, এজন্য ড্যাপ সংস্কার করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, আমরা চাই দেশের আবাসন সেক্টর বিদ্যমান সকল সমস্যা নিরসন করবে এবং এ সেক্টর উত্তোত্তর উন্নয়ন সাধন করে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে ভূমিকা রাখুক। গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবুল কাসেম হায়দার, সাবেক সহ-সভাপতি- এফবিসিসিআই, স্থপতি ড. আবু সৈয়দ মোস্তাক আহমেদ; প্রেসিডেন্ট ইনস্টিটিউট অফ আর্কিটেক্ট বাংলাদেশ (আইএবি); স্থপতি ইকবাল হাবিব, ভাইস প্রেসিডেন্ট- বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা); মো. আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাইন্যান্স-রিহ্যাব; প্রফেসর ড. দেওয়ান এম.এ. সাজ্জাদ, প্রধান সমন্বয়ক ঢাকা সিটি ল্যান্ড অনার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিসিএলএ); মো. ইব্রাহিম সরকার, প্রেসিডেন্ট- উত্তরা ডেভেলপারস ফোরাম প্রমুখ।
Posted ০৭:৫৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com