রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
৫ দাবিতে ১৫ দিনের কর্মসূচি

ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক সমাবেশ

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬   প্রিন্ট   ২৯ বার পঠিত

ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক সমাবেশ

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকদের সমাবেশ হয়েছে। এতে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো এবং পাঁচ দফা দাবিতে টানা ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এ সমাবেশ হয়। এসময় বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী এবং শেয়ারহোল্ডারসহ সাধারণ গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নুরুন নবি মানিক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিল্প, ব্যবসা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে এই ব্যাংককে দুর্বল করা হয়েছে। ব্যাংক লুটপাট, ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি।

নুরুন নবি মানিক বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আবারও ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। লুটপাটের উদ্দেশ্যে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি তৈরি করছে। আমরা সাধারণ গ্রাহকরা ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ‘অবৈধ কার্যক্রম’ ঘটলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

সমাবেশ থেকে ঘোষিত পাঁচ দফা দাবি হলো

ব্যাংক লুটপাট ও ঋণখেলাপির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার, সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং বিদেশে পাচার অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা।
ব্যাংক লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়- এমন আইনগত ধারা (১৮/ক) বাতিল।
ব্যাংকের সামনে ‘মব’ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে পুনরায় সুযোগ দেওয়া হলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।
কোনো অবৈধ দখলদার গোষ্ঠীকে ব্যাংকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তা প্রতিহত করা হবে।
ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া।

দাবি আদায়ে দেশব্যাপী ১৫ দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- অনলাইন ও অফলাইনে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার ও প্রচারণা চালানো, ছাত্র-যুবক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে দাবিগুলো ছড়িয়ে দেওয়া, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সহযোগীদের চিহ্নিত করে তথ্য সংগ্রহ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচার, জেলা-উপজেলায় মানববন্ধন, সভা ও সেমিনার আয়োজন এবং জনমত গঠনের ওপর জোর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের কোটি কোটি মানুষের আমানত সুরক্ষার স্বার্থে কয়েকজন লুটেরার হাতে ব্যাংক খাত ছেড়ে দেওয়া যায় না। তারা জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে একটি বিস্তৃত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

এসময় স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি, উইং বা সেল গঠনের আহ্বান জানানো হয়, যাতে সংগঠিতভাবে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, মালিকানা বিরোধ ও চাকরিচ্যুতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে মতিঝিল এলাকায় একাধিক কর্মসূচি দেখা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই গ্রাহক সমাবেশ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Facebook Comments Box
×

Posted ০৪:০৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com