অনলাইন ডেস্ক
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ প্রিন্ট ৩৬ বার পঠিত
বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে ও চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। তবে, সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয়।
রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।
প্রশ্নোত্তর পর্বে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গোলাম রসুল বলেন, গ্রামাঞ্চলে এখনও পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলেও বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগ রয়েছে।
জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে, তবে সেটিকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয়।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সরকার জীবাশ্ন জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বারোপ করেছে। দেশে ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন। এছাড়া ৬৬৫ মেগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
তিনি বলেন, দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে।
জামায়াতের এমপি গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, তাপমাত্রা অত্যাধিক বাড়ার ফলে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সরকার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০২৬ সালের প্রক্ষেপিত বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্বালানি (গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানি) সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আচ্ছা।
তিনি বলেন, গ্যাসভিত্তিক, কয়লাভিত্তিক ও তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসমূহের সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতিজনিত কারণে লোডশেডিং করার প্রয়োজন হয় না।
এমপি খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র স্থাপন করে সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার অবকাঠামো ব্যবহার অথবা নিজস্ব ব্যবস্থাপনার বৃহৎ/বাল্ক গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমানে দেশে ১ হাজার ১৭২ মেগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ২৬টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি ৬৬৫ মেগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান। যা, ২০২৯ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এমওএস/এএমএ
Posted ০৭:৪২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com