|

Advertisement
×

এলডিসি উত্তরণে দুই বছরে প্রস্তুতি, ছয় মাসে সমন্বয়: ইআরডি সচিব

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬   প্রিন্ট   ৯ বার পঠিত

এলডিসি উত্তরণে দুই বছরে প্রস্তুতি, ছয় মাসে সমন্বয়: ইআরডি সচিব

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ সব ধরনের সুবিধা হারাবে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স, সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হবে। আর শেষ ছয় মাসে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল শিফট ইন দ্য পোস্ট-এলডিসি ইরা: স্ট্র্যাটেজিস ফর আইপিআর ইস্যুজ অব কি ইন্ডাস্ট্রিজ’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসএসজিপি, ইআরডি ও ডিসিসিআই যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

ইআরডি সচিব বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর কোন কোন সুবিধা অব্যাহত থাকবে এবং কোথায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা চিহ্নিত করে আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের করণীয়ও নির্ধারণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সহযোগিতায় একটি রোডম্যাপ ও অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরে আমরা কি সব সুবিধা হারাচ্ছি? আসলে সব সুবিধা হারাবো না। কিন্তু কিছু জায়গায় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি দরকার।’

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইনি দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, এ ঘাটতি পূরণে সরকার কাজ করছে।

এসএমই ও গবেষণায় গুরুত্ব:
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ধোলাইখাল, কেরানীগঞ্জ, সাভার ও ভৈরবসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে বংশপরম্পরায় পণ্য তৈরি করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের শুধু সরকারি সহায়তা দিলেই হবে না, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে। পণ্যের নকশা ও মানে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারলে এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষণা খাতে বরাদ্দ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থের অভাবের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ঘাটতিও এর জন্য দায়ী। এসব সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে সরকার কাজ করছে।

এসএমই খাতে অর্থায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তবে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, এর সঠিক ব্যবহার ও টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সমন্বয়ের ওপর জোর:
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে সমন্বয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন ইআরডি সচিব। সরকার, বেসরকারি খাত, শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, রোডম্যাপ অনুযায়ী প্রতিটি খাত ও বিভাগের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট আলোচনা করা হবে। কোথায় আইন, বিধি বা কার্যক্রমে পরিবর্তন, সংযোজন কিংবা পরিমার্জন প্রয়োজন, তা পর্যালোচনা করা হবে।

সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করে এ বিষয়ে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোথায় প্রক্রিয়া জটিল, কোথায় অস্বচ্ছতা এবং কোথায় মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন—এসব বিষয় চিহ্নিত করা হচ্ছে। সরকারি সেবা আরও সহজ করতে ডিজিটালাইজেশনের কাজও চলছে।

বাংলাদেশের নিজস্ব মানদণ্ড তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শুধু আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ না করে এমন নিজস্ব মানদণ্ড তৈরি করতে হবে, যা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পায়। তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে মানোন্নয়নের পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়নে (আরঅ্যান্ডডি) শিল্প খাতকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিন বছর অপেক্ষা নয়:
এলডিসি উত্তরণের নির্ধারিত সময়ের বিষয়ে শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, তিন বছর সময় খুব বেশি নয়। তাই পুরো সময় অপেক্ষা না করে আগেই প্রস্তুতি শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৪ মাসে কমপ্লায়েন্স, প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে একটি পর্যায়ে যেতে চায় সরকার। শেষ ছয় মাসে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তবে সব আইন ও নীতি রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো আইন বা নীতি পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন, নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের ফ্যাকাল্টি অব ল এবং ডব্লিউআইপিও একাডেমির সাবেক পরামর্শক মোহাম্মদ আতাউল করিম।

সভায় ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও এসএসজিপির প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ফায়েজ আহমেদ, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রইসুল কবির, আইপিএবির পরিচালক জেনারেল এমদাদুল আজিজুর রহমান, বিজিএমইএর সেক্রেটারি জেনারেল মেজর জেনারেল ড. মো. শাহেদুল ইসলাম (অব.) এবং বামার সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:১৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com