শনিবার ৩০ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

জ্বালানির দাম না বাড়ানোর পরামর্শ সিপিডির

রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২   প্রিন্ট   ৩৯৮ বার পঠিত

জ্বালানির দাম না বাড়ানোর পরামর্শ সিপিডির

জনগণের কষ্ট লাঘবে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম এ মুহূর্তে না বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সংস্থাটি বলেছে, এসব পণ্যের দাম বাড়ালে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। এই চাপ সামলানো সরকারের জন্য কঠিন হবে।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজেদের কার্যালয়ে রোববার (২০ মার্চ) ‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন পথে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।
সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের সব দেশেই চাল, ডাল, আটা, মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী, কিন্তু বাংলাদেশে এসব পণ্যের দাম বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এর অন্যতম কারণ হলো বাজার বিষয়ে দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা।

আলোচনা সভায় একাধিক আলোচক বলেন, এ মুহূর্তে অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় মূল্যস্ফীতি। গত এক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী এবং এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

মূল্যস্ফীতির হার নিয়ে সরকারের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি। সংস্থাটি বলেছে, একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী, অন্যদিকে সরকার বলছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে কীভাবে, সে প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি।
গবেষণা সংস্থাটির ভাষ্য, চাল, ডাল, আটা, ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ হয়েছে। এরপরও কীভাবে মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল থাকে, তা পরিষ্কার নয়।

সিপিডি মনে করে, মানুষের আয় বেড়েছে, কিন্তু যে হারে আয় বেড়েছে, তার তুলনায় জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।
সংস্থাটি বলেছে, চলতি অর্থবছরে আমদানি-রপ্তানি বাড়লেও চলতি লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ঘাটতি আছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের চেয়ে কমে যাওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে।

নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করে সিপিডি। সংস্থাটির অভিযোগ, কারা এসব অপকর্ম করছে, সে বিষয়ে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য থাকলেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

রমজান এলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। কারসাজির মাধ্যমে মূল্য বাড়ায়। এর জন্য আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি যতটা দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী হলো সরকারের দুর্বল তদারকির ব্যবস্থা।

সিপিডি মনে করে, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে আন্ডার এবং ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই পাচার রোধ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের যৌথভাবে নীতি তৈরি করতে হবে।
অর্থনীতি এমনিতেই চাপের মুখে ছিল মন্তব্য করে সিপিডি বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশীয় অর্থনীতিতে চাপ আরও বেড়েছে। এই চাপ মোকাবিলায় সরকারকে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. ম. তামীম, সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. তৌফিকুল ইসলাম, সৈয়দ ইউসুফসহ অনেকে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকার যদি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম না বাড়ায়, তাহলে অর্থনীতিতে চাপ আসবে না। কারণ এই চাপ সামলানোর মতো সক্ষমতা আছে।

‘চলতি অর্থবছরের বাজেটে এখন পর্যন্ত যে ঘাটতি আছে, তা সহনীয়। এ ছাড়া সরকারের কাছে পর্যাপ্ত তারল্য আছে। কাজেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হবে না।’

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ালে অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি হবে, তা সামাল দেয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। সুতরাং এসব পণ্যের দাম বাড়ানো সঠিক হবে না।’

এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘ভর্তুকিতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকারকে কৌশলী হতে হবে। স্মার্ট বা চতুর নীতি গ্রহণ করতে হবে। চতুর ভর্তুকির অর্থ হলো যাদের জন্য ভর্তুকি প্রয়োজন, সেই টার্গেট গ্রুপ যাতে ভর্তুকি পায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ বাজারভিত্তিক হওয়া উচিত।’

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু সে অনুযায়ী মূল্য পাচ্ছি না। আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেশি হচ্ছে।

‘ফলে বাণিজ্যব্যবস্থা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। এটি আমাদের জন্য বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, ‘গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিলে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে; জিডিপি কমে যাবে।
‘অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামবে। সরকারের এ পদক্ষেপ নেয়া ঠিক হবে না।’

Facebook Comments Box

Posted ০৬:৩৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com